চট্টগ্রাম নগরের ডিসি হিল এলাকায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় অন্তঃসত্ত্বা একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় সরকারি গাড়িচালক বাবলা দাসের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন।
বাবলা দাস চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের গাড়িচালক। বাদীপক্ষের আইনজীবী নাজনীন সুলতানা জেনি জামিনের বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অজ্ঞাতনামা গাড়িচালক ও নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে পুলিশ গাড়িচালক বাবলা দাসকে আসামি করে গত ৩০ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর আজ তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘আমরা বাদীপক্ষ বিষয়টি শুনানির আগে জানতাম না। তাই আগামী ধার্য দিনে আসামির জামিন বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। মামলায় ডিসি হিলের মূল ফটক দিয়ে বের হওয়া পিকআপ ভ্যানের চালক ও একজন নিরাপত্তাকর্মীকে আসামি করা হয়েছিল। তবে এজাহারে তাদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। সম্প্রতি আদালতে দেওয়া মামলার চার্জশিটে বাবলা দাসকে আসামি রাখা হলেও নিরাপত্তাকর্মীকে নট সেন্ট আপ করা হয়েছে।’
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন এবং পশু হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারায় পরিবেশকর্মী তোফায়েল আহমেদ বাদী হয়ে চট্টগ্রাম আদালতে মামলাটি করেন। মামলা বলা হয়, গত ৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার পর ডিসি হিলের মূল ফটক দিয়ে একটি সাদা রঙের পিকআপ ভ্যান বের হচ্ছিল। এ সময় ফটকের সামনে একটি অন্তঃসত্ত্বা কুকুর বসে ছিল। নিরাপত্তাকর্মী কুকুরটি সেখানে বসে থাকার বিষয়টি দেখলেও সেটিকে সরাননি এবং গাড়িচালককেও থামাননি। পিকআপ ভ্যানটি কুকুরটিকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এরপরও নিরাপত্তাকর্মী কোনও পদক্ষেপ নেননি।
ঘটনার পুরো বিষয়টি ডিসি হিলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ১ মিনিট ৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ডিসি হিলের মূল ফটক দিয়ে একটি সাদা রঙের পিকআপ ভ্যান বের হচ্ছে। ফটকের সামনে একটি কুকুর বসে থাকলেও গাড়িটি থামেনি। ধীরগতিতে এগিয়ে গিয়ে গাড়িটি কুকুরটির ওপর দিয়ে চলে যায়। পরে কুকুরটিকে ছটফট করতে দেখা যায়। এ সময় আরও দুটি কুকুর সেখানে দৌড়ে আসে।
ডিসি হিলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবন রয়েছে। পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও ওই এলাকায় হাঁটতে যান। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ডিসি হিলের প্রধান ফটক বন্ধ ছিল। পিকআপ ভ্যানটি বের হওয়ার আগে নিরাপত্তাকর্মী ফটক খুলে দেন।









