খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এম ডি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নানা কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনের তুলনায় কম বৃষ্টি, নদীর নাব্যতা হ্রাস, নদীর উৎস মুখ বাধাগ্রস্ত হওয়া ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের তুলনায় স্তরে পানি না জমা অন্যতম। এর ফলে বিভিন্ন উৎপাদক নলকূপ সমূহের পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এছাড়া এর প্রভাব পড়ছে টিউবওয়েলের ওপর। এ কারণে টিউবওয়েল থেকেও মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পাচ্ছে। খুলনা মহানগরীর উত্তর অঞ্চলের অবস্থা আরও খারাপ।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীতে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের বসবাস। এ জনগোষ্ঠীর পানির জন্য নির্ভর গভীর নলকূপ ও ওয়াসার পানির ওপর। কিন্তু গরম মৌসুমের শুরুতেই মহানগরীতে টিউবওয়েল ও ওয়াসার বিভিন্ন উৎপাদক নলকূপের পানির স্তর নেমে গেছে। এর ফলে চাহিদামতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের এক জরিপ প্রতিবেদনে জানা গেছে, মহানগরীর বাস্তুহারা এলাকায় পাম্প চালুর আগে পানির স্তর ৬ দশমিক ৫০ মিটার ছিল। পাম্প চালুর সঙ্গে সঙ্গে তা ২৪ মিটারে নেমে যাচ্ছে। মুজগুন্নী এলাকায় ৭ মিটার থেকে ১৯ মিটারে নেমে গেছে পানির স্তর। খালিশপুর শিশু পার্ক এলাকায় ৮দশমিক ৮০ মিটার থেকে ২২ মিটার, বয়রা বকুলতলা এলাকায় ৭ দশমিক ৫০ মিটার থেকে ৩১ দশমিক ১০ মিটার, সোনাডাঙ্গা এলাকায় ৮ মিটার থেকে ২৮ দশমিক ১০ মিটার, ফেরিঘাট এলাকায় ৯ দশমিক ৬০ মিটার থেকে ২৬ দশমিক ৪০ মিটার, জিলা স্কুল এলাকায় ৯ দশমিক ২০ মিটার থেকে ৩০ দশমিক ৯০ মিটার, বসুপাড়া এলাকায় ৯ দশমিক ৭০ মিটার থেকে ৩১ দশমিক ৩০ মিটার, শেরে বাংলা রোড এলাকায় ৯ দশমিক ২০ মিটার থেকে ৩১ দশমিক ৬০ মিটার ও টুটপাড়া তালতলা হাসপাতাল এলাকায় ৮ দশমিক ৪০ মিটার থেকে ৩১ দশমিক ৫০ মিটার।
মহানগরীর ইকবাল নগর এলাকার বাসিন্দা পংকজ দাস জানান, গরম শুরুর আগেই তাদের বাসায় পানির সংকট শুরু হয়ে গেছে। মোটরেও গভীর নলকূপে পানি উঠছে না। আবার টিউবওয়েল থেকে পানি তুলতে সময় লেগে যাচ্ছে।
বসুপাড়া আজাদ লন্ড্রী এলাকার জেবীন রহমান জানান, তার পরিবারে ৫ সদস্য। কয়েকদিন ধরে প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছেন না তিনি। তাই সকাল থেকেই পানির চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।
ফারাজিপাড়ার সেলিম আহমেদ বলেন, ‘আগে দিনে একবার ৩০ মিনিট মোটর চালালেই হয়ে যেত। কিন্তু এখন ২ ঘণ্টা করে ৩ বার মোটর চালাতে হচ্ছে। নিজের প্রয়োজনের পাশাপাশি ১০টি ভাড়াটিয়ার পানির চাহিদা মাথায় রেখেই মোটর দিনে একাধিকবার চালাতে হচ্ছে।’
খুলনা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘মহানগরীতে প্রতিদিন ২৪০ মিলিয়ন লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। ওয়াসার ২৫০ কিলোমিটার পাইপ লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে ১১৯ মিলিয়ন লিটার পানি। ফলে গ্রাহকদের পানি সরবরাহে মাঝে মধ্যে কিছুটা ভোগান্তি থাকছে। তবে পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন বাড়িতে স্থাপন করা গভীর নলকূপেও পানি পাওয়ায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।’
/এমডিপি/