‘করোনার টিকা পেতে গত রাতে (রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি) টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করি। রাতেই টেক্সট পাই টিকা গ্রহণের। এরপর সকালে (সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি) যশোর জেনারেল হাসপাতালের বুথে এসে টিকা নিয়েছি। টিকা গ্রহণে কোনও ভয় লাগেনি। এছাড়া শারীরিকভাবে সুস্থ আছি। আমি মনে করি, সবার এ টিকা নিয়ে সুস্থ জীবনযাপন করা উচিত।’
যশোরে দ্বিতীয়দিনে করোনা টিকা নিয়ে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন আফরোজা বেগম নামের এক গৃহবধূ।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দ্বিতীয়দিনের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় যশোর জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ১২টি কেন্দ্রে। চলবে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যক্তিদের সকাল থেকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
যশোরের সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যশোরে ৬ হাজার ৩৮৯ জন ভ্যাকসিনের জন্যে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় তিন হাজার ৭৪০ জন, অভয়নগরে ২৫৬ জন, বাঘারপাড়ায় ২০৬ জন, শার্শায় এক হাজার ৯ জন, ঝিকরগাছায় ২২২ জন, চৌগাছায় ২৩৭ জন, কেশবপুরে ২৭৪ জন ও মণিরামপুর উপজেলায় ৪৪৫ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। যশোর সদরে পাঁচটিসহ মোট ১২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আজ ১২শ’ জনকে টিকাদানের প্রস্তুতি রয়েছে।
এদিকে, সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে বিজিবি সদস্যসহ সাধারণ মানুষ টিকা গ্রহণ করেন। লাইন দিয়ে তারা টিকা গ্রহণ করেন। কোনও জটিলতা ছাড়াই টিকা নিতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন টিকাগ্রহণকারীরা। একইসঙ্গে সবাইকে টিকা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা।
রোকেয়া খানম নামে অপর এক গৃহবধূ বলেন, রেজিস্ট্রেশনের একদিনের মধ্যে টিকা নিতে পেরে ভালো লাগছে। এতদিন ধরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলাম না। টিকা নিয়েছি, একমাস পরে দ্বিতীয় ডোজও নেবো, যাতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি। নিজের স্বার্থে সবার এ টিকা নেওয়া উচিত।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, গতকাল শুরু হওয়া এ টিকা কার্যক্রম প্রথম পর্যায়ে টানা ১২দিন চলবে। এর এক মাস পর দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। এখন পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছে তাদের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখ দেয়নি বলে জানান তিনি।