ময়মনসিংহে লকডাউনেও চলছে গণপরিবহন, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ময়মনসিংহ মহানগরীর ১১টি এলাকায় সাতদিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ জুন) সকাল ৬টা থেকে এই লকডাউন কার্যকর হয়েছে। তবে সকাল থেকেই কঠোর লকডাউনে ঢিলেঢালাভাব দেখা গেছে। এসময় পাটগুদাম বাসটার্মিনাল থেকে গণপরিবহন বিভিন্ন রুটে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এসব পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনও বালাই ছিল না। সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও কম দেখা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লকডাউন এলাকায় মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোনও যানবাহন ছেড়ে যায়নি। তবে পাটগুদাম এলাকা থেকে অন্যান্য দিনের মতো বিভিন্ন রুটে গণপরিবহন চলতে দেখা গেছে। বিশেষ করে শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা বাস পাটগুদাম টার্মিনাল হয়ে ডেকে ডেকে যাত্রী উঠিয়ে গাজীপুর চৌরাস্তার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

যাত্রী পরিবহনে এসব বাসে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনও বালাই ছিল না। আগের মতোই প্রতি আসনে যাত্রী বসিয়ে বাস চলাচল করতে দেখা গেছে।

শেরপুরের ড্রিমল্যান্ড পরিবহনের বাসচালক মনির হোসেন বলেন, কোনও সময় না দিয়ে হুট করে সরকার লকডাউন দিয়েছে। আমাদের ঘরে খাবার নাই। পেটের তাগিদেই বাস নিয়ে গাজীপুরে যেতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গাড়ি না চালালে মালিকরা তো আমাদের খাবারের টাকা দিবে না। ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে কীভাবে সংসার চলবে। গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

অপর চালক সাইদ হোসেন জানান, মালিকরা নিষেধ করলে তো আমরা গাড়ি নিয়ে বের হতে পারতাম না। পেটের দায়েই আমাদের ঘর থেকে বের হতে হয়েছে।

এদিকে সকাল থেকেই মহানগরীর লকডাউন এলাকায় দোকানপাট বন্ধ দেখা গেছে। তবে সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লকডাউন বাস্তবায়নে তৎপরতা দেখা যায়নি।

অবশ্য জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হক জানান, লকডাউনের প্রথমদিন হওয়ায় কার্যকর করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর আছেন। কেউ বিধিনিষেধ না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।