৮ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

দুদক

বগুড়ায় দম্পতির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে জাল সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় আট কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করায় ওই দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি মামলা করেছে। দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম রবিবার বিকালে নিজ কার্যালয়ে এ মামলা করেন। নোটিশ পাওয়ার পরও সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় ওই দম্পতির বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়েছে।

গত ১৫ জুলাই শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের ছয় কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন।

অভিযুক্ত দম্পতি হলেন, বগুড়া সদরের বড় কুমিড়া গ্রামের তফসির উদ্দিনের ছেলে এবং বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলার আল ফারাবী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আকলিমা খাতুন।

দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, আল ফারাবী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আকলিমা খাতুন বেশ কয়েকটি ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে জাল সার্টিফিকেটের ব্যবসা করছেন। গত জুনে তাদের সম্পদ ও সম্পত্তির হিসাব দাখিল করতে নোটিশ করা হয়। কিন্তু তারা ওই নোটিশের অবজ্ঞা করেন। তদন্তে দেখা যায়, আল ফারাবী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সাত কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী আকলিমা খাতুন ৮২ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। এ ব্যাপারে রবিবার বিকালে তিনি বাদী হয়ে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছেন। এছাড়া সম্পত্তির হিসাব দাখিল না করায় তাদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়েছে।

ওই দম্পতি ২০১৬ সালে বগুড়া শহরের সুবিল এলাকায় সাধারণ বীমা ভবনসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ভাড়া নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, প্যারা-মেডিক্যাল সায়েন্স, চারুকলা ও বিএড কলেজসহ বিভিন্ন নামে ১২টি ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেন। তারা শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের ছয় কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। ঢাকার সিআইডি পুলিশের ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের ইন্সপেক্টর ইব্রাহিম হোসেন নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আকলিমা খাতুনসহ শ্যালিকা নাজমিন আক্তারের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর লুৎফর রহমান গত ১৫ জুলাই দুপুরে ওই দম্পতিকে ঢাকার শান্তিনগর পোস্ট অফিসের সামনে থেকে গ্রেফতার করেন। এরপর থেকে তারা জেল হাজতে রয়েছেন।