তৃতীয় দিনে রাজশাহীতে করোনার টিকার ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ বেড়ে গেছে। সব ভয়, শঙ্কা দূর করে পেশাজীবীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়েছেন করোনার টিকা নেওয়ার লাইনে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে রাজশাহী বিভাগের আট জেলাতেই আজ মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তৃতীয় দিনে ছিল গণটিকাকেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। রাজশাহী বিভাগে আজ টিকা নিয়েছেন ১৩ হাজার ১১৪ জন। এর আগে প্রথম দিনে (রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি) ৩ হাজার ৭৫৭ জনকে ও দ্বিতীয় দিনে (সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি) ৫ হাজার ৬৪২ জন টিকা দেওয়া হয়।
সন্ধ্যায় রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক হাবিবুল আহসান তালুকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাজশাহী বিভাগে টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে পুরুষ ছিলেন ৯ হাজার ৮৪৩ ও নারী ৩ হাজার ২৭১ জন। এদের মধ্যে রাজশাহী জেলায় ১ হাজার ৮৯৮। এরমধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৩৪৮ ও নারী ৫৫০ জন। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ১ হাজার ১৪০ জন নিয়েছেন টিকা। এদের মধ্যে পুরুষ ৭৯৪ ও নারী ৩৪৬ জন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় টিকা নেওয়ার সংখ্যা এখনও তেমন বাড়েনি। টিকা নিয়েছেন মাত্র ৪৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ছিলেন ৩৮৪ ও নারী মাত্র ৮০ জন।
প্রথমদিনে নিবন্ধন করার পরেও টিকাগ্রহণকারীদের খুঁজে না পয়ে নাটোরে ৫ ভায়াল টিকা নষ্ট হয়ে যায়। সেখানে তৃতীয় দিনে শংকা দূর করে টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ১৩৪ জন। স্থানীয়দের মধ্যে টিকা নেওয়ার বিষয়ে যে দ্বিধা ও সংশয় ছিল তা কেটে গেছে। টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে পুরুষ ছিলেন ৮৬৭ জন ও নারী ২৬৭ জন।
নওগাঁ জেলায় আজ টিকা নিয়েছেন ২ হাজার ৭৮৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ হাজার ১৬৫ ও নারী ৬১৯ জন। পাবনা জেলায় নেন ১ হাজার ৬১৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ হাজার ২৭৫ ও নারী ৩৪৩ জন। সিরাজগঞ্জ জেলায় টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ২৭৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৯৩২ ও নারী ৩৪৩ জন। বগুড়া জেলায় নিয়েছেন ১ হাজার ৬৪০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ হাজার ২০০ ও নারী ৪৪০ জন। জয়পুরহাট জেলায় ১ হাজার ১৬১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৮৭৮ ও নারী ২৮৩ জন।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার জানান, প্রতিটা টিকায় দেখা যায় ১০ শতাংশের কার্যকারিতা হারিয়ে যায়। করোনা ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও তেমন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। আর তৃতীয় দিনে কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। টিকাগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে, রাজশাহী বিভাগে বুথের সংখ্যা প্রয়োজন পড়লে বাড়ানো হবে।
এদিকে অন্যদিনের চেয়ে রামেক হাসপাতালে টিকা নেওয়ার উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। রামেক হাসপাতালের করোনা টিকার কেন্দ্রে ঘুরে দেখা গেছে, বেলা একটা পর্যন্ত ৩ নম্বর পুরুষ কেন্দ্রে মোট টিকা নিয়েছেন ১১০ জন, এক নম্বর বুথে ১৬০ জন, নারীদের ২ নম্বর বুথে ২২১ জন, ৪ নম্বর বুথে ১৯৭ জন। আর মঙ্গলবার নতুন দুইটি বুথ খোলা হয়েছে। এ দুটিতে মোট টিকা নিয়েছেন ৩৩০ জন নারী পুরুষ। এ দিন টিকা নিয়েছেন রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর হবিবুর রহমান।
মঙ্গলবার দুপুরে টিকা নিয়ে নূরন্নবী জানান, টিকা নিয়ে অনেক ভালো লাগছে। কোনও সমস্যা হচ্ছে না। রেজিস্ট্রেশন করে অল্প সময়ের মধ্যে টিকা পাবো ভাবতে পারিনি।
ড্রাইভার হজরত আলী জানান, আমার স্যার গতকাল টিকা নিয়েছে। আমিও রেজিস্ট্রেশন করে আজ টিকা নিলাম। কোনও সমস্যা হয়নি। বিনা পায়সার এই টিকা পাচ্ছি আমরা অনেক ভালো লাগছে।
মাজিয়া বেগম (৫৬) জানান, টিকা নিতে পেরে ভালো লাগছে। আমাদের মতো বয়স্ক মানুষদের জন্য আগে টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
রাজশাহী নগরীর দুইটি কেন্দ্রসহ মোট ১১টি কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি চলছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা গ্রহণ করেন রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। তার পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মীসহ অনেকেই ভ্যাকসিন নেন।
সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, করোনার ভ্যাকসিনে কোনও ক্ষতিকর উপাদান নেই। নিজে সুস্থ থাকতে অবশ্যই ভ্যাকসিন নেওয়া প্রয়োজন।