যারা করোনার টিকা নিচ্ছেন তাদের প্রত্যেককে দেওয়া হচ্ছে একটি করে প্যাকেট। প্রতিটি প্যাকেটে আছে একটি আপেল, একটি জুস প্যাকেট (২০০মিলি), এক বোতল পানি (২৫০মিলি), মাস্ক ও প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন আনার এই ব্যক্তিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। করোনার টিকা নিতে এসে অপ্রত্যাশিতভাবে ফল, জুস, পানি, মাস্ক ও ওষুধ পেয়ে ওয়ার্ডাবাসীও খুশি।
গণটিকা কার্যক্রমে ওয়ার্ডবাসীকে আকৃষ্ট করতে এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন আনার। তিনি বলেন, গত ৭ গস্ট থেকে নগরীতে ৩০টি ওয়ার্ডে গণটিকা প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়। ৭ আগস্ট ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৪৩ এবং ৮ আগস্ট ৭৮০ জনকে মর্ডানার প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়। দুইদিনে টিকাগ্রহণকারী সবাইকে কমলা, জুস, পানি, মাস্ক ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে। ১৪ আগস্ট প্রায় ১৮০০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তাদের সবাইকেও আপেল, জুস, পানির বোতল, মাস্ক ও প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট দেওয়া হয়। আগামীতেও টিকাগ্রহণকারীদের এভাবেই আপ্যায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
কাউন্সিলরের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ওয়ার্ডবাসী। শনিবার (১৪ আগস্ট) টিকা নিতে আসা তেরখাদিয়া এলাকার বাসিন্দ রুপালি বেগম বলেন, ওয়ার্ড কার্যালয়ের পাশে প্যান্ডেল করে পুরুষ ও নারীদের আলাদা বুথে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবাই সারিবদ্ধ হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিয়েছি। টিকা নিয়ে বেরিয়ে আসার সময় ওয়ার্ডকর্মীরা ডেকে হাতে একটি প্যাকেট তুলে দেন। টিকা নিতে এসে আমাকে এভাবে আপ্যায়ন করা হবে সেটি ভাবিওনি।
এদিকে সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩০টি ওয়ার্ডের ৮৪টি কেন্দ্রে ৪১ হাজার ১৮জনকে মর্ডানার প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এদিন মহানগরীতে সর্বমোট ৪২ হাজার ৬৯৫ জনকে টিকা দেওয়া হয়।
রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, গণটিকাদান ক্যাম্পেইনে ৭ ও ৮ আগস্ট দুইদিনে ৭৮ হাজার ৮৭৩ জনকে টিকা দেওয়া হয়। টিকার মজুত শেষ হওয়ায় ৯ আগস্ট থেকে গণটিকা ক্যাম্পেইন স্থগিত করা হয়। নগরবাসীর চাহিদা বিবেচনায় মেয়র স্বাস্থ্য অধিদফতরে যোগাযোগ করে মডার্না টিকা আনার চেষ্টা করছেন। মেয়রের অনুরোধে নতুন করে ৬০ হাজার ৪৮০ ডোজ মডার্নার প্রথম ডোজ টিকা আমরা পেয়েছি। এরমধ্যে শনিবার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে মোট ৪২ হাজার ৪৪৪ জনকে মডার্নার দেওয়া হয়। আগামী সোমবার ওয়ার্ড পর্যায়ে গণটিকাদান কর্মসূচি চলবে।
এছাড়া রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (টিচার্স ট্রেনিং কলেজ) কেন্দ্রে এক হাজার ১৬২ জনকে, পুলিশ হাসপাতাল কেন্দ্রে ৫৪ ও আইডি হাসপাতাল কেন্দ্রে ২১০ জনকে টিকা দেওয়া হয়। মডার্নার টিকার বাইরে ৯১ জনকে সিনোফার্ম ও ১৬০ জনকে কোভিশিল্ড টিকা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৭ আগস্ট ওয়ার্ড পর্যায়ে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। ৭ আগস্ট ৩৪ হাজার ৩৮৫জনকে টিকা দেওয়া হয়। এরমধ্যে ৩০টি ওয়ার্ডে ৮৪টি কেন্দ্রে ২৭ হাজার ২৫৬ জনকে মডার্নার প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়। ৮ আগস্ট দ্বিতীয় দিন ৪৪ হাজার ৪৮৮ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়। এরমধ্যে মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ৮৪টি কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ৬৬৪জনকে প্রথম ডোজ মডার্নার টিকা দেওয়া হয়। নগরীতে ৭ ও ৮ আগস্ট দুইদিনে ৭৮ হাজার ৮৭৩জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপর টিকার মজুত না থাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।