বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলমের কর্মী-সমর্থকরা কেটলির প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী ও দলটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। একইসঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনেরও অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে বগুড়া প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান এসব অভিযোগ করেন। তবে বিএনপির প্রার্থী ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, বগুড়া-২ আসন থেকে তিনি যাতে নির্বাচন করতে না পারেন, সে জন্য শুরু থেকেই কতগুলো ইস্যু তৈরি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি কখনও ঋণখেলাপি ছিলাম না। আমার একটা ব্যবসা ছিল। সেই ব্যবসায় লোন নিয়েছিলাম। ব্যবসাটা করতে পারিনি। ১০-১৫ বছর ধরে যে স্বৈরাচারটা চলেছে, ঠিকমতো এলাকায় যেতে পারিনি। দুই বছর ধরে জেলে ছিলাম। ব্যবসাটা যার হাতে ছিল, তিনি তার রাজনীতি বিবেচনায় হোক আর অযোগ্যতায় হোক, ব্যবসাটা ঠিকমতো করতে পারেননি। বেশ বড় ঋণ করে ফেলেছেন। জুলাই আন্দোলনের পর আমি নিজে কোনও ব্যবসায়ী না হয়েও এটা হাতে নেওয়ার পর এক বছরে দুই কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যখন রি-শিডিউলের বৈঠক চলছিল তখন আশ্চর্যজনকভাবে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়, ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করা না হলে মামলা করা হবে। তখনই বুঝেছিলাম একটা চক্রান্ত হচ্ছে। পরে ব্যাংকের স্থানীয় শাখার ব্যবস্থাপককে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় এবং ঋণ রি-শিডিউল করা হয়। কিন্তু ব্যাংক থেকে চিঠি দেওয়া হচ্ছিল না। ফলে আদালতে যেতে হয়। এতে সময় লেগে যায়।’
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে একটা নির্বাচনি সমঝোতা হয়েছিল, তারা বগুড়া-২ আসন থেকে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। কিন্তু আদালতে সময় লাগার এই ফাঁকে যিনি আমাকে নির্বাচন থেকে সরে রাখতে কলকাঠি নেড়েছেন, তারা এখানে ডামি প্রার্থী দেয়। বলেছিল, যথাসময়ে তারা এটা দেখবে। সংগত কারণে মাসখানেক পর পরশু এলাকায় এসেছি। আসার পর থেকেই দেখলাম, এলাকায় প্রচার চালানো হচ্ছে, ক্ষমতায় তো যাচ্ছিই, আমার পক্ষে যারা কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে বলে থ্রেট করা হচ্ছে। এভাবে ভোটারদের, কৃষক, গৃহবধূ, ইউনিয়নের নেতাদের মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হচ্ছে।’
এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করেছেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুর রহমান বলেন,‘এখনো অভিযোগ করা হয়নি, প্রয়োজনে করবো।’ জামায়াতের সঙ্গে জোটের গুজব উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবো।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম বলেন, ‘নাগরিক ঐক্যের সভাপতি এলাকায় থাকেন না। প্রচার শুরুর চার দিন পর মাঠে এসেছেন। ভোটারের সাড়া না পেয়ে প্রচারণার মাঠে সুবিধা করতে না পেরে তিনি রাজনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ধানের শীষের কেউ কেটলি প্রতীকের সমর্থকদের ভয় দেখিয়েছেন বা প্রচারে বাধা দিয়েছেন, এ রকম প্রমাণ থাকলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করতে পারতেন।’