বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে মোহাম্মদ আলী শয়ন মন্ডল (২৪) নামে আরেক বিএনপি কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের জোড়গাছা মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ আলী শয়ন মন্ডল ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের জোড়গাছা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত টিপু মন্ডলের ছেলে। তিনি বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় লোকজন।
নিহতের খালাতো ভাই আনারুল আকন্দ জানান, মোহাম্মদ আলী স্থানীয় বিএনপির সক্রিয় কর্মী। আগে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। বর্তমানে ভেলাবাড়ী হাটের ইজারাদারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। সিঙ্গাপুরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একই এলাকার ও একই রাজনৈতিক দলের কর্মী ফটিক মন্ডলের ছেলে সুবেল মন্ডলের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। তাদের মধ্যে কোনও বিষয় নিয়ে পূর্ববিরোধ ছিল। বুধবার রাত ৮টার দিকে গ্রামের টগরের সমিলের সামনে মোহাম্মদ আলী ও সুবেলের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সুবেল চাকু বের করে বুকে ঢুকে দিয়ে পালিয়ে যান। স্বজন ও স্থানীয় লোকজন মোহাম্মদ আলীকে উদ্ধার করে রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেন। চিকিৎসকরা কিছুক্ষণ পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের খালাতো ভাই আনারুল আকন্দ আরও জানান, মোহাম্মদ আলী ও সুবেল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা সবসময় একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। তবে তাদের মধ্যে কী নিয়ে বিরোধ ছিল, তা জানা যায়নি। তিনি তার ভাইয়ের হত্যাকারী সুবেলকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে, ‘লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
এর আগে সোমবার রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার ফাঁপোড় ইউনিয়নের খন্দকারপাড়ায় হাইস্কুলের সামনে পাওনা টাকা নিয়ে মামলা ও বিরোধের জেরে আরিফুল ইসলাম মুন্না (৫১) নামে এক বিএনপি কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মারা যান।
আরিফুল ইসলাম মুন্না বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় ইউনিয়নের খন্দকারপাড়া গ্রামের মৃত ডা. ইয়াসিন আলীর ছেলে। তিনি ফাঁপোড় ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। একই এলাকার আবদুল আজিজের ছেলে আবদুল সায়েম কিছুদিন আগে আরিফুল ইসলাম মুন্নার কাছে টাকা ধার নেন। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা ফেরত না দেওয়ায় মুন্না তার বিরুদ্ধে আদালতে চেকের মামলা করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মামলা তুলে নিতে সায়েম তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন।
বগুড়া সদরের ফাঁপোড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন জানান, নিহত মুন্না তার সংগঠনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি এ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজ আলম জানান, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সায়েম ছুরিকাঘাত করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুন্না মারা যান। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে মামলা হয়নি। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।