লালমনিরহাট পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২৬ জুন) সকাল ৬টা হতে ২ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত এই কঠোর বিধিনিষেধ চলবে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর। পৌর এলাকায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়।
জেলা প্রশাসক আবু জাফর স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিধিনিষেধের কারণে লালমনিরহাট সদর পৌর এলাকায় সব ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না। পৌর এলাকায় সবধরনের অফিস-আদালত, শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট, পর্যটনস্থল, বিনোদন কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
বিধিনিষেধ চলাকালে পৌর এলাকায় এনজিও’র কিস্তি আদায় কার্যক্রম, সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গণজামায়েত বন্ধ থাকবে। তবে ওষুধের দোকান সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব দফতর-সংস্থাসমূহ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সংবাদপত্র, জরুরি সেবা, কৃষি ও খাদ্য পরিবহন, ত্রাণ কার্যক্রম, এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।
জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, জেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বিষয়ে পর্যালোচনায় পরিলক্ষিত হয় লালমনিরহাট পৌরসভায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তাই সার্বিক বিবেচনা করে কারিগরি কমিটির সুপারিশে আমরা ৭ দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। এ আদেশ বাস্তবায়নের জন্য ২৬ জুন শনিবার সকাল ৬টা থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবেন।
লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন বলেন, আগে জীবন পরে জীবিকা। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হয়েছে। পৌরবাসীকে সাময়িক কষ্ট হলেও এই আদেশ মেনে চলার অনুরোধ জানান তিনি।