হিলিতে একমাস ধরে আটকা ২ শতাধিক গমবাহী ট্রাক

গমের বাজার পড়ে যাওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে এক আমদানিকারকের বিপুল পরিমাণ গম রফতানি করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ী। একসঙ্গে সব গম আসায় ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অর্থ সংগ্রহে সময় লাগায় বন্দর থেকে গম খালাস বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারক। এতে একমাসের বেশি সময় ধরে স্থলবন্দরে আটকা পড়েছে দুই শতাধিক গমবাহী ট্রাক। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরে সৃষ্টি হয়েছে পণ্যজট।

দীর্ঘদিন ধরে আটকা থাকায় এবং সঙ্গে নিয়ে আসা টাকা ও খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় ট্রাকচালকরা। মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে স্থলবন্দরের পানামা পোর্টের পণ্য প্রবেশপথে অবস্থান নেন তারা। এ সময় তাদের ট্রাক থেকে দ্রুত গম খালাসের দাবি জানান।

ভারত থেকে গম নিয়ে আসা সুদাম মন্ডল, সাবের আলীসহ কয়েকজন ট্রাকচালক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, আমরা ভারত থেকে আমদানিকৃত গম নিয়ে হিলি স্থলবন্দরে এসেছি। একমাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের ট্রাক থেকে গম খালাস হয়নি। আমদানিকারকের খোঁজখবর নেই। আমাদের খোঁজখবর নেওয়ার লোক নেই। আমরা জানতাম, বন্দরে প্রবেশের দুই-তিন দিনের মাথায় ট্রাক থেকে গম খালাস করা হবে। ওই হিসেবে টাকা ও সঙ্গে চাল-ডাল নিয়ে আসছিলাম। কিন্তু কে জানতো এতদিন থাকতে হবে। এখন খাবার ও টাকা-পয়সা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমরা খাবো কী? চলবো কীভাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। বিষয়টি মহাজনদের জানালে পার্টির সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছে বলে দায় সারলেন। এভাবে এক মাসের বেশি সময় আমরা এখানে পড়ে আছি। বাধ্য হয়ে আজ অবরোধ করেছি।

আমদানিকারক মনোনীত হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আলম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার বিশ্বাস পোল্ট্রিফিড গম আমদানি করেছে। ভারতের পান্না ইন্টারন্যাশনাল গম রফতানি করেছে। ইতোমধ্যে দেশে গমের বাজার পড়ে গেছে। দেশে যে গমের দাম ২৯-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল; তা বর্তমানে ২৭ টাকায় নেমেছে। একই সঙ্গে ভারতের বাজারেও গমের দাম পড়ে গেছে। যে গম ৩৩৮ থেকে ৩৪০ ডলারে আমদানি করতে হতো, এখন তা কমে ৩১০ মার্কিন ডলারে নেমেছে। ফলে ভারতীয় রফতানিকারক নিজে বাঁচতে আমাদের গমের যে পাঁচ হাজার টনের এলসি দেওয়া ছিল; সেগুলো পাঠিয়ে দিয়েছেন। এগুলো বাড়তি মূল্যে কেনা ছিল। গমের বাজার পড়ে যাওয়ায় রফতানিকারক একসঙ্গে সব গম পাঠিয়ে দিয়েছেন। অথচ পর্যায়ক্রমে গম দেওয়ার কথা ছিল। দুই দিনে প্রায় ছয় হাজার টন গম এসেছে। কিন্তু এত গম খালাসের জন্য ব্যাংকের যে কাগজপত্র সংগ্রহ করতে প্রচুর টাকার দরকার, তার ব্যবস্থা করতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে গম খালাস করা যাচ্ছে না। এমনকি আমদানিকারক ভারতীয় রফতানিকারককে পত্র দিয়ে নিষেধ করেছেন; যাতে নতুন করে গম রফতানি না করা হয়। তবে বন্দরে যেসব গম আটকা আছে, তা দুই-একদিনের মধ্যে খালাসের চেষ্টা করছি আমরা।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে গম আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে বিগত দিনের চেয়ে বর্তমানে গম আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। সেই তুলনায় গম খালাস না হওয়ায় বন্দরে পণ্যজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বন্দরের পক্ষ থেকে আমদানিকারককে জানানো হয়েছে। তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে গমের ট্রাকগুলো খালাস করবেন। তবে বন্দরের ভেতরে এখনও ২০০ বেশি গমবাহী ট্রাক আটকা আছে। এর মধ্যে কোনও কোনও ট্রাক একমাস ধরে আটকা আছে।