কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হলেন যারা

জেলা পরিষদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় ইভিএমে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে দুপুর ২টায় শেষ হয়। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ২৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাফর আলীকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। জাফর আলী আগের মেয়াদেও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মেয়াদ শেষে তাকে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার।

জেলার নয় উপজেলাকে ৯টি ওয়ার্ড ও তিনটি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হয়। 

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সদস্য পদে ৯ ওয়ার্ডে ৩৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১০ প্রার্থী। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য পদে ৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে তিন জন নির্বাচিত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ডে (ভূরুঙ্গামারী) সদস্য পদে তালা প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন জহির উদ্দিন। তিনি পেয়েছেন ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহাঙ্গীর আলম হাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ ভোট। 

২ নম্বর ওয়ার্ডে (নাগেশ্বরী) তালা প্রতীকে জয়ী হয়েছেন একরামুল হক বুলবুল। তিনি পেয়েছেন ১০৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজি নাজমুল হুদা লাল হাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৮৬ ভোট। 

৩ নম্বর ওয়ার্ডে (ফুলবাড়ী) সাধারণ সদস্য পদে হাতি প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন মনোয়ারা বেগম। তিনি পেয়েছেন ৪৭ ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আশরাফুল আলম মন্ডল তালা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৪ ভোট। 

৪ নম্বর ওয়ার্ডে (সদর) সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. মিনহাজুল ইসলাম। তিনি টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেসমিন আরা বেগম বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ ভোট। 

৫ নম্বর ওয়ার্ডে (রাজারহাট) সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. এনামুল হক। তিনি বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুস সামাদ সরকার টিউবওয়েল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৬ ভোট। 

৬ নম্বর ওয়ার্ডে (উলিপুর) জয়ী হয়েছেন মো. জুয়েল। তিনি হাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মাহমুদ কলি তালা প্রতীকে ৮৭ ভোট পেয়েছেন। 

৭ নম্বর ওয়ার্ডে (চিলমারী) সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন মো. জামিনুল হক। তিনি তালা প্রতীকে পেয়েছেন ৪০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাউল করিম লিচু নলকূপ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮ ভোট। 

৮ নম্বর ওয়ার্ডে (রৌমারী) হারুনুর রশিদ বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক নিয়ে ৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আফজাল হোসেন টিউবওয়েল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭ ভোট।

৯ নম্বর ওয়ার্ডে (রাজিবপুর) হাতি প্রতীকে ২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সোহেল সরকার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহবুব রশিদ তালা প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ ভোট।

এদিকে, সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচনে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন মাসুদা ডেইজী। তিনি হরিণ প্রতীকে জয়ী হন। ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে হরিণ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন শিউলি বেগম। ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ফুটবল প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন আরমিন নাহার।