ভারতীয় ট্রাকচালকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার, হিলিতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক

হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় এক ট্রাকচালককে বন্দর এলাকার বাইরে যেতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন ট্রাকচালকরা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। সোমবার (০৫ জুন) বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়। 

এর আগে ভারতীয় ট্রাকচালকরা পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দিলে রবিবার সকাল থেকে দুই দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। জটিলতা নিরসনে দুই দেশের আমদানি-রফতানিকারকদের নিয়ে বৈঠকে বসে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় এক ট্রাকচালককে বন্দর এলাকার বাইরে যেতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে রবিবার থেকে ধর্মঘট শুরু করেন ট্রাকচালকরা। এ নিয়ে সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটের শূন্যরেখায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ট্রাকচালকরা নিরাপদ পানি ও থাকার ব্যবস্থা, ট্রাক থেকে দ্রুত পণ্য খালাসসহ সাত দফা দাবি জানান। পরে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি মেনে নেন। ফলে বিকাল থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়।

ভারতের পক্ষে হিলি এক্সপোটার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক কুমার ও হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদের নেতৃত্বে দুই দেশের ৫০ জন নেতৃবৃন্দ বৈঠকে অংশ নেন।

হারুন উর রশীদ জানান, ‌‘ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেটি নিরসন  হয়েছে। ভারতীয় ট্রাকচালকদের দাবিগুলো সমাধানের কথা বলেছি আমরা। বিকাল থেকে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।’

বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ভারতীয় ট্রাকচালকদের বন্দরের বাইরে যাওয়া বন্ধ রেখেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নির্দেশনা উপেক্ষা করে ভারতীয় ট্রাকচালকরা বন্দরের বাইরে যাতায়াত করেছিলেন। গত শনিবার বন্দরের ভেতরে ব্যারিকেড দেন বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারীরা। এ নিয়ে বন্দরের কর্মচারীদের সঙ্গে ভারতীয় এক ট্রাকচালকের হাতাহাতি হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখে ধর্মঘটের ডাক দেন চালকরা। এতে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। তবে ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন বিকালে সমস্যা নিরসন হয়েছে।’

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘ভারতীয় ট্রাকচালকরা পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখায় দুই দিন আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল। তবে বিকাল থেকে পণ্য খালাস ও ট্রাকে পণ্যভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’