স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করতেই পালালেন স্বামী, আটক করে পুলিশে দিলো স্থানীয়রা

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে মোরসেলিম আকাশ (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী শাহিনা বেগমকে (২২) হত্যার অভিযোগে তাকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয় লোকজন। মোরসেলিমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন শাহিনার মা রহিমা বেগম। মামলার এজাহারে মোরসেলিমের নাম উল্লেখের পাশাপাশি দুই থেকে তিন জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

গ্রেফতার মোরসেলিম পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলামের ছেলে। তার স্ত্রী শাহিনা সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে। তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে একটি প্রাইভেটকারে করে মুমূর্ষু অবস্থায় শাহিনাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন মোরসেলিম। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেটকার চালিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পালিয়ে যান মোরসেলিম। এলাকায় গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে থানায় খবর দেন। রাতেই তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের জন্য শাহিনার মরদেহ উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সচালক হৃদয় মণ্ডল জানান, চিকিৎসক ওই নারীকে মৃত বলার সঙ্গে সঙ্গে মোরসেলিমের গতিবিধি নিয়ে উপস্থিত সবার সন্দেহ হয়। তিনি প্রাইভেটকার নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

শাহিনার মা রহিমা বেগম বলেন, ‘মোরসেলিম আমার মেয়ে শাহিনাকে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে আসে। সে একজন মাদকাসক্ত। বিয়ের পর থেকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রায়ই আমার মেয়েকে মারধর করতো। গতকালও শাহিনাকে মারধর করা হয় বলে জানতে পারি। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’

পলাশবাড়ী থানার ওসি সারওয়ার আলম খান বলেন, ‌‘শাহিনার মরদেহের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন আছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’