বগুড়ায় ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন নিঝুমের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের এক মাস পর তার বন্ধু নাজিম উদ্দিনকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাওনা টাকা না দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে নাজিম চেতনানাশক খাইয়ে নিঝুমের মাথায় ইট দিয়ে আঘাতে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকালে নিজ এলাকা কাহালু উপজেলার মদনাই এলাকা থেকে নাজিমকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। এর আগে নিহতের ভাই সোহেল হোসেন সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। নিহত ওয়াহেদ হোসেন নিঝুম (৩৭) বগুড়া মহানগরীর সূত্রাপুর এলাকার ফল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের ছেলে। বাবার সঙ্গে ফলের ব্যবসা করতেন তিনি। গত ১২ আগস্ট বগুড়া সদরের মালগ্রাম দিঘীরপাড় এলাকার একটি ধানক্ষেতের পাশে বস্তাবন্দি পচন ধরা লাশ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন।
নিঝুম একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে মা রঞ্জনা বেগমের নামে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে তিন লাখ টাকা ব্যবসার কাজে বাবাকে দেন। দুই লাখ টাকা স্বপনকে (২৮) ও এক লাখ টাকা নাজিমকে ধার দেন। নাজিমের কাছে ধারের ওই টাকা ফেরত চাওয়ায় বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, বিরোধের জেরে নিঝুমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নাজিম। এজন্য সহায়তা নেন আরেক বন্ধু স্বপনের। গত ৭ আগস্ট তারা নিঝুমকে নাজিমের বেসরকারি সংস্থার মালগ্রাম শাখা এলাকায় ডেকে নেন। হত্যার আগে নাজিম ইন্টারনেটে অচেতন করার ওষুধের নাম খোঁজেন। পরে ওই ওষুধ বিষাক্ত কোমলপানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিঝুমকে খাওয়ানো হয়। এতে অচেতন হয়ে পড়লে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর মরদেহ বস্তায় ভরে ওই এলাকার ধানক্ষেতের পাশে ফেলে দেন। ৮ আগস্ট নাজিম ও স্বপন বেসরকারি ওই সংস্থার বাবুর্চির চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের কলরেকর্ড ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যায় নাজিম ও স্বপনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।’
এদিকে নিঝুমের ভাই সোহেল হোসেন বুধবার বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় নাজিমকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের পর থেকেই পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছিল। এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু জড়িত ছিল। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরজন স্বপনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তাকে পেলেই নিজুম হত্যার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।’









