প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সংস্কার, দুই দিনেই বেহাল সড়ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে সড়ক সংস্কার ও সড়ক বিভাজকে রং করার কাজে সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি সংস্কার করায় কাজ শেষ হওয়ার দুই দিনের মধ্যেই সড়কটি আবার চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে নগরীর সড়ক বিভাজকে রং করার কাজেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান। রংপুরে মন্দির পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় উপলক্ষে তার আগমনকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কের একটি অংশ সংস্কার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা সড়কটি আগে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হলেও প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি কাজ করা হয়।

তবে সংস্কারের দুই দিনের মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে আবারও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দুই লেনের সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করায় এক পাশে চাপ বাড়ছে এবং দুর্ভোগে পড়ছেন চালক ও যাত্রীরা।

সরেজমিনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের বিজিবি সেক্টর কমান্ডারের কার্যালয়সংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের সড়কে খানাখন্দ দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা অংশটি অল্প সময়ের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তবে এই ব্যয়ের পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সড়ক সংস্কারে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও মাত্র দুই দিনের মধ্যে সড়কটি আবার চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তার অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পাগলাপীর থেকে মোটরসাইকেলে নিয়মিত যাতায়াতকারী এনজিও কর্মকর্তা বদরুল হাসানও সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, সড়ক সংস্কারের কাজ কীভাবে করা হয়েছে এবং এতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তা স্বচ্ছভাবে জানানো প্রয়োজন। কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সওজের কয়েকজন কর্মচারীর ভাষ্য, সড়কের খানাখন্দে খোয়া ও বালু দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করা হয়েছে। তবে কাজের মান নিয়ে তাদের অসন্তোষ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগের একজন প্রকৌশলীও সংস্কারকাজের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, রংপুর নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভাজকে রং করার কাজেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং ব্যয়ের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজের মান ও ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রকৌশলী কামাল পাশার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। প্রকৌশলী কামাল পাশা জানান, সড়ক সংস্কারের জন্য কোনও দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। বিভাগের রক্ষণাবেক্ষণ খাতের অর্থ থেকে কাজটি করা হয়েছে। তবে এ কাজে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তা জানাতে রাজি হননি তিনি।

সড়ক সংস্কার ও বিভাজকে রং করার কাজে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ব্যয় ও কাজের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।