রাস্তায় বের হলেই প্রশ্নের মুখোমুখি

করোনার সংক্রমণ রোধে সিলেটে লকডাউনের প্রথম দিনে কঠোর ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি কঠোর অবস্থানে ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে তল্লাশিচৌকি বসিয়ে মানুষের চলাচল করা হয়েছে। কারও কারও কাছে রাস্তায় বের হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন সেনাসদস্যরা। এ সময় কারণ জানাতে না পারায় অনেককেই বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০১ জুলাই) সিলেট নগরীসহ ১৩ উপজেলা নজরদারি করেছে সেনাবাহিনী। জরুরি কাজ কিংবা অহেতুক রাস্তায় বের হলেই মানুষকে জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। যারা জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েছেন এবং সঠিক কারণ জানাতে পেরেছেন তাদের ছেড়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী। যারা কারণ জানাতে পারেননি তাদেরকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে সেনাবাহিনীর একটি দল। এ সময় বাইসাইকেলের পেছনে করে কালিঘাট এলাকা থেকে কার্টনভর্তি সিগারেট নিয়ে যাচ্ছিলেন এক যুবক। সেনাবাহিনী তাকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চায়। তখন ওই যুবক ভুল স্বীকার করে আর বের হবে না জানালে ছেড়ে দেয় সেনাবাহিনী। এ সময় সেনাবাহিনীর এক সদস্য ওই যুবককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন।

এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে সিলেট মহানগরীসহ ১৩ উপজেলায় জেলা প্রশাসনের ৩৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেছেন সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মানুষকে সচতেন করার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা না মানায় জরিমানা করেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাম্মা লাবিবা অর্ণব বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে সিলেট মহানগরী এলাকাসহ ১৩ উপজেলায় জেলা প্রশাসনের ৩৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানে থাকায় লকডাউনের প্রথম দিনে মানুষ ও যানবাহন চলাচল একেবারেই ছিল না। রাস্তাঘাট ছিল ফাঁকা। 

তিনি বলেন, যারা রাস্তায় বেরিয়েছেন তাদেরকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে জরুরি কাজে যারা বের হয়েছেন তাদের গন্তব্যে যেতে দেওয়া হয়েছে। অহেতুক কেউ রাস্তায় বের হলেই তার কাছে জবাব চেয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।