কাজে ফেরেননি ওসমানী মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে হাসপাতালের শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের পাশাপাশি হাসপাতালের মূল ফটকের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তারা। মামলার সব আসামিকে গ্রেফতারের দাবিতে সকাল থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ করছেন। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে হাসপালের জরুরি বিভাগ, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ও হৃদরোগ বিভাগকে অবরোধের বাইরে রাখা হয়েছে।

দাবি আদায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছেন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া কর্মবিরতি পালন ও কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলছিল দুপুর পর্যন্ত। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ধর্মঘট ডাকলেও সেবা কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

আরও পড়ুন: সমঝোতা হয়নি, আন্দোলনে ওসমানী মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

হাসপাতালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের শ্লীলতাহানি ও দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। মামলায় মোট আসামি আট জন। তাদের মধ্যে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, মূল হোতাসহ সবাইকে গ্রেফতার করতে হবে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অ্যাকশন দেখতে চান শিক্ষার্থীরা। 

ওসমানী মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য দৃশ্যমান উদ্যোগ না নেওয়া পর্যন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সবাইকে গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত ধর্মঘট কর্মসূচি চলবে।’

ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সার্বিক চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রয়েছে। হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‌‘আইজিপি থেকে ও আমাদের অনেক ওপরের লেবেল থেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একটাই দাবি, অন্তত একজন বা দুইজন হলেও যেন আসামি ধরা পড়ে। ওরা (শিক্ষার্থীরা) পুলিশের রেসপন্স দেখতে চাচ্ছে, অ্যাকশন দেখতে চাচ্ছে। এখানকার পুলিশ কমিশনারের সাথে রাতে ও সকালে আমার কথা হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা সবাই আসামি গ্রেফতারে কাজ করছে। আশা করি দ্রুতই এটার সমাধান হবে।’

সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে পরিচালক বলেন, ‘ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। ক্যাম্পের জন্য একটা জায়গা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। পুলিশের টহল বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আনসার বাহিনীর সদস্যদেরও বৃদ্ধি করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে আশা করি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।’