শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, শাটডাউনের হুঁশিয়ারি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ম ‘শিথিল’ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার দাবি করেছেন আন্দোলনরত প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

একই দাবিতে সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি বিভাগে কোনও ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। গতকাল সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। ফলে ২৮টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। চেম্বার জজ আদালত শাকসু নির্বাচনের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তারা একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে শিবির সমর্থিত প্যানেল ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’র ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, ‘২০ জানুয়ারি শাকসুর ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি দলের প্ররোচনায় দুজন প্রার্থী ও একজন ভোটার হাইকোর্টে রিট করেন। ফলে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি, হাইকোর্ট যেন অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায় দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায় না এলে ক্যাম্পাসে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা সবাই অনেক সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অনেক কষ্ট করেছেন। নির্বাচনের জন্য হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চেম্বার জজ আদালতে আপিল করা হয়। আমাদের শাকসু নির্বাচনের জন্য যেহেতু ইসির অনুমতি আছে, তাই আমাদের একটি বৈধ ও শক্ত গ্রাউন্ড আছে। তাই আমাদের দাবি একটাই, জাতীয় সংসদের নির্বাচনের ২১ দিন আগে অন্য কোনও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে না, ইসির এই নিয়মাবলি শিথিল করে শাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।’

শিবির সমর্থিত জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার ভোটের দুই দিন আগে দুজন প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থীকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে রিট করিয়েছে ছাত্রদল। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্যের’ ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ, স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ারসহ বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী, সমর্থক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি বিভাগে কোনও ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। গতকাল সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সালাতুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘আজ সকাল থেকে আমাদের বিভাগে কোনও ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। কয়েকজন শিক্ষার্থী আসলেও তারা অন্য কাজে এসেছিলেন, তবে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলেছে।’

দুপুরে বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ঘুরে দেখা যায়, কোনও ভবনেই ক্লাস হচ্ছে না। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনাও তেমন নেই। ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর গতকাল শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা ছিল, তবে গত সোমবার দুই প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থী রিট করায় হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য শাকসু নির্বাচন স্থগিতের রায় দেন। নির্বাচন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ায় ওই দিনই শিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেল, সাধারণের ঐক্যস্বর প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। এরপর নির্বাচনের দাবিতে গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিক্ষোভ ও অবস্থান করেন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী সময় সন্ধ্যার ৭টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানানো হয়। এ সময় বিভিন্ন বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীরা বিবৃতির মাধ্যমে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, শাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। এ অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।