সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের সংঘর্ষে নয় জন নিহতের ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চালক ও দুই বাসের মালিককে পাঁচ দিনের মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার (০৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিআরটিএর সিলেটের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘আপাতত দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। সেইসঙ্গে দুই বাসের চালক এবং মালিকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের বাসের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের আট যাত্রী নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরেকজনের মৃত্যু। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন (রেজি নং ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২৫৬৩) এবং সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের (রেজি নং ঢাকা মেট্রো -ব-১২-৫৯৮৭) সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ নয় জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ২৫ জন। এ ঘটনায় সিলেট বিআরটিএর পক্ষ থেকে বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য ঢাকা মেট্রোতে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে, বিআরটিএর পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ায় ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া পঙ্গুত্ব বরণকারীদের পরিবারকে তিন লাখ টাকা এবং আহতদের এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিআরটিএর সিলেটের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। নিহত পরিবারগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে শিগগিরই তাদেরকে এ অর্থ দেওয়া হবে। পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং আহতদের আবেদন ফরম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের আবেদনগুলোও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে সহায়তা দেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দুর্ঘটনার পেছনের কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শনিবার দুপুরে হতাহতদের দেখতে ওসমানী হাসপাতালে যান। দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম ছিল। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি কিংবা চালকের ঘুমিয়ে পড়ার মতো বিষয়কে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও কারণকেই চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, বাস দুটির চলাচল, চালকদের ভূমিকা এবং সড়কের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। এরপর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারও দায় থাকলে তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।’