সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি-এসিল্যান্ড) মো. আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকালে ওই কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মুজিবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জামালগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান শান্তকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘সন্ধ্যায় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে জামালগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, সিলেটে সংযুক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।’
এদিকে, এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান বর্তমানে ঢাকার পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার বিকালে সিলেট থেকে তার স্ত্রী ও উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মী তাকে ঢাকায় নিয়ে যান।
‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ এবং ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’—পরপর ফেসবুকে এমন দুটি পোস্ট দিয়েছিলেন জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে পোস্ট দুটি দেখে পুলিশসহ অনেকে তার বাসায় ছুটে যান। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে আরিফুর রহমানকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকায় নিয়ে গেছেন। আরিফুর রহমান প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরে বসবাস করেন।
ঘটনার বিষয়ে তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক বলেছিলেন, ‘এসিল্যান্ড মানসিকভাবে খুবই অসুস্থ। গতকাল রাতে উপজেলা সদরে যা ঘটেছে, তা সবাই দেখেছেন।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান জানান, তারা নিয়মিত আরিফুরের খোঁজখবর রাখছেন। আরিফুর দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরে থাকতেন।
ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক জানান, শুক্রবার তার (ইউএনও) তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিন ছিল। রাতে কেক কাটার আয়োজনে এসিল্যান্ড স্ত্রীসহ তার বাসায় উপস্থিত হন। এরপর বাসা থেকে বের হয়েই সোয়া ১০টার দিকে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেন। পোস্ট দেখে অনেকেই এসিল্যান্ডের বাসায় যান। পুলিশও আসে। এর আগে তিনি সেখানে থাকা আনসার সদস্যকে মারধর করেন। ঘরের গ্লাস ভাঙেন। বাসায় অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসকও সেখানে আসেন। ওষুধ দেওয়ার পরও আচরণ স্বাভাবিক হয়নি। পরে স্ত্রী তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।