পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ‘ভায়োলেন্স’ ছাড়লেন অধরা খান

পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যোগাযোগের অভাবের অভিযোগ তুলে ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চিত্রনায়িকা অধরা খান। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন কামাল হোসেন বাবর। প্রজেক্টটি থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী।

রবিবার (১১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টির বিস্তারিত তুলে ধরে অধরা জানান, সিনেমাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি অনেক আগেই নিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় এতদিন তিনি নীরব ছিলেন।

ফেসবুক পোস্টে অধরা লিখেন, আপনাদের অনেকেই জানতে চেয়েছেন কেন আমি ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়িয়েছি! পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যথাযথ যোগাযোগের অভাবে আমি অনেক আগেই সিনেমাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হলেও তাদের পক্ষ হতে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা না আসায়, আমার ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সম্মানিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করছি।

ইচ্ছাকৃত নীরবতার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি লিখেন, আমি এতদিন নীরব ছিলাম, কারণ আমার বক্তব্যের কারণে সিনেমাটির চলমান শুটিং কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তা চাইনি। তবে এই অভিজ্ঞতার কারণে আমাকে বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

অন্যান্য কাজের ক্ষতির কথা উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী আরও জানান, ‘ভায়োলেন্স’-এর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ গ্রহণ করতে পারিনি। চুক্তিগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা থাকায় সেসব প্রজেক্টের বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারছি না। একই সঙ্গে, এই সিনেমার জন্য অন্যান্য কাজের সময়সূচি ও পেশাগত প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে না পারায় এখানে আমার কাস্টিং ডিরেক্টর ও এজেন্সির কাছ থেকেও সতর্কবার্তা পেতে হয়েছে। এই সিনেমায় আমার শুটিংয়ের মাত্র একদিন আগে আমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করাও আমার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল। বাংলা সিনেমার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকেই ‘ভায়োলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম।

এই ঘটনাকে ক্যারিয়ারের বড় ‘ভুল’ ও শিক্ষা হিসেবে বর্ণনা করে অধরা লিখেন, যথাযথ পেশাদারত্ব, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিবেচনা না করে এই প্রজেক্টে যুক্ত হওয়াকে আমি আমার ক্যারিয়ারের একটি বড় ‘ভুল’ হিসেবেও দেখছি। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা বা কোনও সিনেমার ক্ষতি করা নয়; বরং আমার ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সম্মানিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও অবস্থান পরিষ্কার করা।

শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখার শেষ অংশে তিনি আরও লিখেন, পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদারত্ব কখনোই একতরফা হওয়া উচিত নয়। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের সময়, শ্রম ও আত্মসম্মানের মূল্য দেওয়াটাও আমার দায়িত্ব। আশা করি আমার বক্তব্যকে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা হিসেবেই দেখবেন।

উল্লেখ্য, গত আগস্টের শেষ দিকে ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমায় অধরা খানের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবরটি প্রকাশ্যে এসেছিল।