জিম পরিষ্কার করার বিনিময়ে সেখানের শাওয়ার ব্যবহার করতেন মিঠুন

থাকার মতো বাড়ি ছিল না, তাই জিম পরিষ্কার করার বিনিময়ে সেখানকার শাওয়ার ব্যবহার করতেন ওপার বাংলার জনিপ্রয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরও জীবনের সেই কঠিন সময়ে অর্থকষ্টে দিন কাটিয়েছেন এই অভিনেতা। এমনকি থাকার জায়গা না থাকায় নিজের প্রথম গাড়িতেই প্রায় ১৫ দিন কাটাতে হয়েছিল তাকে।

সম্প্রতি ফারহা খানের সঙ্গে কথোপকথনে নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরেন মিঠুন। অভিনেতা জানান, মুম্বইয়ে শুরুর দিনগুলোতে কখনও ফুটপাথে, কখনও বাগানে রাত কাটিয়েছেন। কখনও হাঁটতে হাঁটতে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়তেন যে ফুটপাথেই ঘুমিয়ে যেতেন।

ফারহা জানান, তার কাকা কে কে শুক্লার সূত্রে মিঠুনের সঙ্গে তাদের পরিচয়। বিভিন্ন পার্টিতে নাচতেন মিঠুন। এর জন্য কোনও পারিশ্রমিক নিতেন না; বিনিময়ে পেতেন রাতের খাবার। ফারহার মতে, মিঠুনের জীবনের লড়াইকে শুধু ‘স্ট্রাগল’ বললে কম বলা হয়। মিঠুনও বলেন, ‘এটা শুধু স্ট্রাগল নয়, তার থেকেও অনেক বেশি।’

১৯৭৫ সালে এফটিআইআই থেকে পাশ করার পরের বছর অভিনয়ে পা রাখেন মিঠুন। ১৯৭৬ সালে ‘মৃগয়া’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেলেও তখনও তার থাকার মতো বাড়ি ছিল না। সেই সময়ের প্রায় ৫০ বছরের পুরনো গাড়িটি এখনও যত্নে রেখেছে তার পরিবার।

ক্যারিয়ারে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে ১৯৯৪ সালে স্ত্রী পিঙ্কির পরামর্শে উটিতে হোটেল ব্যবসা শুরু করেন মিঠুন। পরে সেই ব্যবসা সফল হয়, পাশাপাশি ঘুরে দাঁড়ায় তার অভিনয়জীবনও।

‘সুরক্ষা’ ও ‘ডিস্কো ড্যান্সার’-এর সাফল্যে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছান মিঠুন। এক বছরে তার ১৯টি ছবি মুক্তির ঘটনাও জায়গা করে নেয় লিমকা বুক অব রেকর্ডসে। ফুটপাথ থেকে তারকাখ্যাতি—তার জীবনের এই যাত্রা আজও অনুপ্রেরণার গল্প।