একসময় মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। মুম্বইয়ে এসে দিনের পর দিন রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন, এমনকী একটি অফিসের শৌচাগার ব্যবহার করার সুযোগ পাওয়ার জন্য সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও করতে হয়েছে। অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে এক সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীকে খাওয়ানোর অনুরোধও করতে হয়েছিল তাকে। অথচ সেই মানুষটিই আজ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম আইকন মিঠুন চক্রবর্তী। প্রথম ছবিতেই জাতীয় পুরস্কার জিতে নেওয়া এবং দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক সম্মান ও বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া মিঠুনের মুম্বাইয়ের মাড আইল্যান্ডের বিশাল বাংলোটি যেন আলাদা এক জগত।
প্রায় দেড় একর বা প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই সম্পত্তিটি নিছক কোনও বিলাসবহুল বাংলো নয়। ১৯৮৫ সালে বড় ছেলে মিমোহ চক্রবর্তীর জন্মের কয়েক মাস পর এই বাড়িটি কিনেছিলেন মিঠুন ও তার স্ত্রী। মিমোহের নামেই বাংলোটির নামকরণ করা হয়েছে। একসময় ছুটির সময় কাটানোর জন্য ব্যবহার হওয়া এই বাড়িতে ২০০৭ সাল পর্যন্ত উটিতে কাটানোর পর মুম্বাইয়ে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে পরিবারটি।
সবুজে ঘেরা বিশাল এই সম্পত্তিতে পরিবারের ২২টি কুকুরের জন্যও রয়েছে পর্যাপ্ত জায়গা। বাগানের কাজ করতে ভীষণ ভালোবাসেন মিঠুন। তার প্রথম বাড়ি হিসেবে পরিচিত সেই ঐতিহাসিক হলুদ বিটল গাড়িটি আজ চলার মতো অবস্থায় না থাকলেও, এর রক্ষণাবেক্ষণে অভিনেতা অনেক টাকা খরচ করেন বলে জানান তার ছোট ছেলে নমাশি চক্রবর্তী। এছাড়া এই বাংলো একাধিক তারকাখচিত দীপাবলি পার্টির সাক্ষী, যেখানে ধর্মেন্দ্র ও জিতেন্দ্রর মতো তারকারাও অতিথি হয়ে এসেছেন।
বাড়িটির সবচেয়ে নজরকাড়া বৈশিষ্ট্য হল এর বিশেষ নকশা। একই ছাদের নীচে সবাইকে রাখার পরিবর্তে পরিবারের সদস্যদের জন্য তৈরি করা হয়েছে আলাদা আলাদা কটেজ। বাবা এবং দাদু দুজনেই বিশ্বাস করতেন প্রত্যেক সন্তানের নিজের ব্যক্তিগত জায়গা থাকা উচিত। একটি কটেজ জিম, একটি অতিথিদের থাকার জায়গা, একটি মিঠুন ও তাঁর স্ত্রীর থাকার ঘর এবং অন্য একটি কটেজকে অফিসে পরিণত করা হয়েছে।
অফিসের অন্দরসজ্জাতেও ফুটে উঠেছে মিঠুনের দীর্ঘ কেরিয়ারের নানা স্মৃতি। একটি দেওয়ালজুড়ে রয়েছে পুরস্কার ও সম্মাননার ছবি এবং অনুরাগীদের আঁকা স্কেচ। অন্য একটি দেওয়ালে রয়েছে কন্নড় কিংবদন্তি রাজকুমার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাল ঠাকুরের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও অভিনেতাদের সঙ্গে মিঠুনের ছবি। এছাড়াও সাজানো রয়েছে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তের ছবিসহ দীর্ঘ অভিনয়জীবনের বিভিন্ন পুরস্কার। মিঠুনের সংগ্রামী অতীত থেকে আজকের এই বিপুল সাফল্য, মাড আইল্যান্ডের এই বাংলো যেন সেই দীর্ঘ যাত্রারই এক ঝলমলে প্রতিচ্ছবি।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা

আমাকে সবসময় টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে: পপি







