গত ২৯ মে উত্তর কর্ণাটকের গোকর্ণ সমুদ্র সৈকত থেকে ঢেউয়ে ভেসে যাওয়া জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রণীতা মেহতার কাছে কোনও সেলফোনই ছিল না। অথচ সংবাদমাধ্যমে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে সেলফি তোলাকে দায়ী করে খবর প্রকাশ করা হয়েছে। প্রণীতার স্বজনদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস খবরটি নিশ্চিত করেছে। প্রণীতার বাবা মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি মানহানির মামলা করারও হুমকি দিয়েছেন।
প্রণীতার বন্ধু ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রত্যুষী মেহতা বলেন, ‘ওর ফোন ওর কাছে ছিলই না। আমাদের কারো কাছেই ফোন ছিল না। সব ফোনগুলো একত্রে একটা ব্যাগে নিরাপদ স্থানে রেখে দিয়েছিলাম আমরা। ওর ফোনটা এখনও আমার কাছে আছে।’
গণমাধ্যমের দায়িত্বহীন সংবাদ পরিবেশনের সমালোচনা করে প্রণীতার পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব ও অন্য অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রণীতার বন্ধুরা সামাজিক মাধ্যম রেডইটের মাধ্যমে ‘প্রকৃত গল্প’টি প্রকাশ করেছেন। গণমাধ্যমের ওপর ভুল শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি প্রত্যাহার করার চাপ প্রয়োগ করতেই প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করেছেন তারা।
প্রণতীর বন্ধুরা জানান, ২৯ মে সকাল ১০টার দিকে তারা পাঁচজন প্রায় দশ ফুট উঁচু একটি পাথরের ওপর বসে ছিলেন। হঠাৎ একটা বড় ঢেউ এসে তাদের তিনজনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রণীতা ছাড়াও গৌরব ও সজল নামের দুই বন্ধুও সে সময় ভেসে যায়।
পরের ঢেউ গৌরব ও সজলকে ফিরিয়ে নিয়ে এলেও প্রণীতাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিকটস্থ গ্রাম থেকে ২০-২৫ জন মানুষ ডেকে এনে তারা প্রণীতাকে খুঁজতে শুরু করেন। একটি জেলে নৌকা বেলা পৌনে একটা নাগাদ প্রণীতার মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
আরও পড়ুন: টেক্সাসে নিখোঁজ সেনাদের দেহ উদ্ধার
প্রণীতার বাবা সুনীল মেহতা অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সেখানে মাত্র পাঁচজন মানুষ ছিল। আমার মেয়ে তো মারাই গেছে। ওর চার বন্ধু ছিল প্রত্যক্ষদর্শী। অথচ কারও সঙ্গে কথা না বলেই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের ১০০ মিটার দূরেই একটি বাতিঘর রয়েছে। আমি আদালতে সত্য প্রমাণ করতে পারবো। আমরা একটি মানহানির মামলা দায়ের করবো বলে ঠিক করেছি।’
সুনীলের মতে, তার কন্যা একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল মেয়ে ছিল। মিথ্যা সংবাদ প্রচারের কারণে সবাই তার পরিবারকে উপহাস করছে ও প্রণীতাকে দোষারোপ করছে যা তার একেবারেই প্রাপ্য নয়।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
/ইউআর/