সিরিয়ার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও যুক্তরাষ্ট্র তেলে উত্তোলন বাড়ানোয় সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিনেই বিশ্ব বাজারে কমেছে তেলের দাম। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল সিরিয়ার দৌমা শহরে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোর অভিযোগে শুক্রবার রাতে সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। তারা সিরিয়ার তিনটি সরকারি স্থাপনায় হামলা করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, স্থাপনাগুলোতে রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি ও মজুত করা হয়ে থাকে।
সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক শতাংশ কমে দাঁড়িয়ে প্রতি ব্যারেল ৭১ দশমিক ৮৭ মার্কিন ডলার। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট-ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৫৯ সেন্ট কমে হয়েছে ৬৬ দশমিক ৮ ডলার। এই তেলের দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিরিয়ায় হামলার পর এশিয়ার বাজার খুব সতর্কভাবে শুরু হয়েছে। এছাড়া যু্ক্তরাষ্ট্রের তেল উত্তোলন বাড়ানোও তেলের বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান বেকার হাঘস শুক্রবার জানিয়েছে, মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো গত ১৩ এপ্রিল থেকে আরও নতুন সাতটি কূপ থেকে তেল উত্তোলন শুরু করেছে। এর ফলে ২০১৫ সালের মার্চ মাসের পর এখনই দেশটি সর্বোচ্চ তেল উত্তোলন করছে।
ভালো চাহিদা থাকার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উত্তেজনা বাড়ার পরও গত ফেব্রুয়ারি মাসের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রেন্ট তেল।
যদিও সিরিয়া বিশ্ববাজারে তেল উত্তোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নেই। তারপরও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বে অপরিশোধিত তেল রফতানির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এই অঞ্চলে উত্তেজনা বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমায়।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ব্যাংকিং গ্রুপ এএনজেড ব্যাংক বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের গোলযোগের প্রভাবের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন।