তাণ্ডব চলবে অন্তত তিন ঘণ্টা

ভারতের স্থলভাগে ঢুকে পড়েছে বুলবুল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগে ঢুকে পড়েছে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ ও সাগরদ্বীপ হয়ে স্থলভাগে ঢুকে পড়ে ঝড়টি। এখন এটি সুন্দরবন বদ্বীপ অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।14
স্থলভাগে ঢোকার সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারের মতো। তবে আছড়ে পড়ার সময় কিছুটা শক্তি হারিয়ে ফেরবে এটি। স্থলভাগে ঢোকার পর ইতোমধ্যেই অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় থেকে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে বুলবুল।

রাত সাড়ে আটটায় কলকাতায় ঝড়ের গতিবেগ রেকর্ড হয়েছে ঘণ্টায় ৫৩ কিলোমিটার। ঝড়খালিতে তুমুল বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। আগামী ২ ঘণ্টায় উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কলকাতা, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনায় বৃষ্টি চলবে আগামী ২৪ ঘণ্টা। রবিবার দুপুরের মধ্যে বুলবুলের শক্তিক্ষয় হবে। বাংলাদেশ হয়ে ত্রিপুরার দিকে যেতে পারে ঝড়টি।

ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপে (বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপ) আঘাত হেনেছে ঝড়টি। সেখানে বহু জায়গায় কাঁচা বাড়িঘর, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। হাওড়া, পাঁশকুড়া এবং দিঘার মধ্যে তিনটি লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের উপকূীয় এলাকা থেকে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা বেড়েছে বৃষ্টির। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলীয় এলাকায়। সেসব জায়গায় প্রস্তুত রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

কলকাতায়ও চলছে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া। নবান্ন থেকে পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও রয়েছেন পৌরসভার কন্ট্রোল রুমে। সূত্র: আনন্দবাজার।