নেতানিয়াহুর সহকারীর বিরুদ্ধে গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক সহকারীর বিরুদ্ধে ‘০খুবই গোপনীয় সামরিক তথ্য’ ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৩ জুলাই) এ কথা জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল গ্যালি বাহারাভ-মিয়ারা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বাহারাভ-মিয়ারা বলেছেন, গত বছর নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহকারী জোনাতান উরিখ এবং আরেক কর্মী ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে কিছু গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে জার্মান সংবাদমাধ্যম বাইল্ডের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সে সময় হামাসের জিম্মায় থাকা ছয় ইসরায়েলির মৃতদেহ উদ্ধারের পর জনমত নেতানিয়াহুর পক্ষে নেওয়ার চেষ্টায় তারা ওই কাজটি করেন বলে দাবি করেন ইসরায়েলের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা।

তবে, উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উরিখ। আর নিজের সহকারীদের ওপর অভিযোগগুলোকে ‘উইচ হান্ট’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন নেতানিয়াহু।

উল্লেখ্য, উইচ হান্ট বা ডাইনি শিকার হচ্ছে মধ্যযুগীয় এক বর্বরতার প্রকাশ। সে সময় তুলনমূলক জ্ঞানী, যোগ্য বা যুগের চেয়ে অগ্রসর নারীদের ওপর কালোজাদু চর্চার অভিযোগ তুলে তাদের ডাইনি আখ্যা দিত সমাজের কোনও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের আইন বহির্ভূতভাবে মানুষই হত্যা করত।

গত বছর গাজার একটি সুড়ঙ্গ থেকে ওই ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এরপর ইসরায়েলে ব্যাপক বিক্ষোভের শুরু হয়। নেতানিহাহুর ওপর রাজনৈতিক স্বার্থে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভন্ডুল করার অভিযোগ তোলে ভুক্তভোগীদের পরিবার। তবে নেতানিয়াহু সব দায় হামাসের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। হামাসের দিক থেকেও ইসরায়েলকে দায়ী করার প্রচেষ্টা দেখা যায়।

সে সময় এক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে জিম্মিদের ছেড়ে দেওয়ার আলোচনার ধারাবাহিকতায় ৩০ জনের তালিকা পাঠিয়েছিল হামাস। মৃতদের চারজনের নামই সেখানে ছিল।

এদিকে, যে সংবাদমাধ্যম বাইল্ডে গোপন তথ্য পাঠানো হয়েছিল, জিম্মিদের মরদেহ পাওয়ার কিছুদিন পর তারা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যুদ্ধবিরতি আলোচনায় হামাসের কৌশল সেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়। তবে, হামাসের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর অভিযোগের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয় ওই লেখায়।