বিশ্বের রাজনৈতিক আকাশে প্রতিদিনই নতুন মেঘ জমছে, নতুন ঝড় উঠছে। বৈশ্বিক নীতি-নির্ধারণের নীরব সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে ভূ-রাজনীতির জটিল খেলা, কূটনীতির অদৃশ্য সুতো, সংঘাতের আগুন এবং প্রতিরক্ষা খাতের নীরব প্রস্তুতি- সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অবিরাম পরিবর্তন চলছে। এই পরিবর্তনের প্রতিটি দৃশ্য আজকের বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলছে, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর কয়েকটি পাঠকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে।
যুদ্ধের ইতি টানতে চুক্তিতে সই করলেন ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান; এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার দলিল: গালিবাফ; ভবন ওড়ানো বন্ধ করো: নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প; চুক্তির পরও ইরান-মার্কিন শান্তির পথে বাধা কী; ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তি করে যেভাবে লাভবান হলো ইরান; ইরান-মার্কিন চুক্তিতে কী পেলেন ইসরায়েলের নেতানিয়াহু- এই খবরগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলোর এই সংকলন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সই করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী, তেহরান তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কমিয়ে আনবে এবং এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করবে। এর ফলে ইরান এখন থেকে অবাধে তেল বিক্রি করতে পারবে, যাকে ওয়াশিংটনের একটি বড় ছাড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যর্থতার দলিল’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। উভয় পক্ষ চুক্তির মূল পাঠ প্রকাশ করার পর, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার দলিল। মানুষ এটি দেখবে এবং বিচার করবে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
লেবানন ইস্যুতে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘ভবন ওড়ানো বন্ধ করতে’ বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই নেতার ঘন ঘন ফোনালাপ আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি উত্তেজনাপূর্ণ ও বৈরী হয়ে উঠেছে।
টানা প্রায় চার মাস যুদ্ধের পর আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি বসছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকেরা। চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতাদের অনুমোদিত সমঝোতা স্মারক-এর আওতায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে দুই পক্ষই এমন কিছু জটিল ও সংবেদনশীল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে যেকোনো সময় ভেস্তে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হওয়া সমঝোতার ফলে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পেতে যাচ্ছে তেহরান। দুই দেশের এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানের তেল বিক্রির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে শিথিল করা, অবরুদ্ধ করে রাখা বিশাল তহবিল মুক্তি এবং চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি প্রকাশ ও স্বাক্ষর করেছেন, তাকে কৌশলগত এবং রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তবে বুধবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছিলেন সম্পূর্ণ নীরব।

যুদ্ধের ইতি টানতে চুক্তিতে সই করলেন ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান
এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার দলিল: গালিবাফ
ভবন ওড়ানো বন্ধ করো: নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প
চুক্তির পরও ইরান-মার্কিন শান্তির পথে বাধা কী
ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তি করে যেভাবে লাভবান হলো ইরান
ইরান-মার্কিন চুক্তিতে কী পেলেন ইসরায়েলের নেতানিয়াহু







