সাধারণত যাত্রীসেবা কিংবা গন্তব্যের নেটওয়ার্কের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় থাকে বিমানবন্দরগুলো। তবে একটি বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি পেয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে, তার বিশাল আয়তনের জন্য।
৭৭৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই অ্যাভিয়েশন হাবটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরের বিশ্ব রেকর্ডটি ধরে রেখেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, পুরো বাহরাইন রাষ্ট্রের আয়তন ৭২৭ বর্গকিলোমিটার, যা এই বিমানবন্দরের আয়তনের চেয়েও ছোট। শুধু তা-ই নয়, ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বাইয়ের আয়তন যেখানে ৬০৩ বর্গকিলোমিটার, এটি তার চেয়েও বড়।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দাম্মামের কাছে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি ১৯৯৯ সালে বাণিজ্যিক ফ্লাইট অপারেশনের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের চেয়েও কয়েক গুণ বড়। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই বিশাল আয়তনের অতি সামান্য একটি অংশজুড়ে টার্মিনাল, রানওয়ে ও ব্যবহৃত অবকাঠামো অবস্থিত। বিশাল এক মরুভূমির মাঝে এটি ছোট একটি এলাকা দখল করে রয়েছে এবং সুবিশাল অংশ ফাঁকা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
হঠাৎ এত বড় জায়গা জুড়ে বিমানবন্দর নির্মাণের পেছনে রয়েছে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দৃষ্টিভঙ্গি। ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের পরিবর্তে একবারেই অতিরিক্ত রানওয়ে, টার্মিনাল সম্প্রসারণ, কার্গো ও লজিস্টিক সুবিধা, অ্যাভিয়েশন সহায়তা অবকাঠামো এবং অপারেশনাল বাফার জোনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা বরাদ্দ রেখে এটি ডিজাইন করা হয়েছিল, যেন কয়েক দশক ধরে কোনও স্থানসংকটে পড়তে না হয়।
আয়তনের দিক থেকে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেলেও ব্যস্ততার দিক থেকে এটি কিন্তু বিশ্বের শীর্ষ বিমানবন্দরগুলোর তালিকায় পড়ে না।
সূত্র: এনডিটিভি