সাত বছর পর এক দিনের সফরে শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসা শি জিনপিংয়ের নিরাপত্তায় দিল্লিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার সফর ঘিরে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য ও ২০০ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
শি জিনপিং নয়াদিল্লির তাজ প্যালেসে অবস্থান করবেন। তার হোটেলকে নো-ফ্লাই জোনের আওতায় রাখা হয়েছে। সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী ও বোমা শনাক্তকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। হোটেলের ভেতর ও আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পারমাণবিক, তেজস্ক্রিয়তা ও জৈব-রাসায়নিক হুমকি শনাক্তের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। হোটেলের আশপাশের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামোও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
শির সফরের প্রায় ১০ দিন আগে চীন একটি কার্গো বিমান ভারতে পাঠায়। এতে শির ব্যবহারের জন্য হংছি রাষ্ট্রীয় লিমুজিন, একটি অতিরিক্ত গাড়ি ও যোগাযোগ সরঞ্জাম আনা হয়।
বিদেশি নিরাপত্তা দলগুলোর আনা কিছু সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ম মানতে হচ্ছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমতি নেই। পাশাপাশি কিছু অস্ত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ভারতে আনা যায় না, সেগুলো কাস্টমসে জমা দিতে হয়।
শি জিনপিংয়ের সফর প্রায় ২৪ ঘণ্টার হবে। শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক গুরুত্ব পেতে পারে। রবিবার সকাল ১১টার দিকে ভারত ছাড়ার আগে তিনি ভারত মণ্ডপম থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন।
শি চীনের রাষ্ট্রীয় বিমান হিসেবে ব্যবহৃত এয়ার চায়নার পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেন। বিমানটি মূলত বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান ছিল। পরে এতে ভিআইপি অভ্যন্তর, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়। এতে এনক্রিপ্টেড স্যাটেলাইট যোগাযোগ, হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লির অন্যান্য এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে শান্তি পথ পর্যন্ত শির যাতায়াতের রুটে ৭০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও পাঁচটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। তুঘলক রোড থানায় আলাদা একটি সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণকক্ষ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০০ ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি

ভারতের আপত্তিতে বছরের পর বছর ব্রিকসের বাইরে পাকিস্তান







