বিশ্বের রাজনৈতিক আকাশে প্রতিদিনই নতুন মেঘ জমছে, নতুন ঝড় উঠছে। বৈশ্বিক নীতি-নির্ধারণের নীরব সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে ভূ-রাজনীতির জটিল খেলা, কূটনীতির অদৃশ্য সুতো, সংঘাতের আগুন এবং প্রতিরক্ষা খাতের নীরব প্রস্তুতি- সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অবিরাম পরিবর্তন চলছে। এই পরিবর্তনের প্রতিটি দৃশ্য আজকের বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলছে, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। ৪ নভেম্বর (বুধবার) বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর কয়েকটি পাঠকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে।
রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা: ১৯ নভেম্বর রায় দেবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত; ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী; শেখ হাসিনাকে সমর্থনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে: এইচআরডব্লিউ; ‘আমেরিকানরা বিরক্ত হলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো’: ট্রাম্প; কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই ডেমোক্র্যাটদের হাতে, ফলাফল মেনে নিলেন ট্রাম্প; যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদ; যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জয়লাভ করা এই ৭ মুসলিম কারা?; ‘নীল সুনামিতে’ ট্রাম্প ও ইসরায়েলের শঙ্কা দেখছে ইসরায়েলি মিডিয়া-এই খবরগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলোর এই সংকলন।
মায়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে গাম্বিয়ার দায়ের করা ঐতিহাসিক মামলার চূড়ান্ত রায় আগামী ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। হেগ-ভিত্তিক এই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এ সংক্রান্ত একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে দলটির সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিনেট আসনে জয় পেয়েছে বিরোধী দল। চূড়ান্ত ফলাফলে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছর রাজনৈতিকভাবে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে অন্যায়ভাবে শাস্তির মুখোমুখি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা তার ওপর বিরক্ত হয়ে পড়লে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিতে নিজের জনপ্রিয়তা ৯৯ শতাংশ বলেও দাবি করেছেন তিনি। কানাডার সংবাদমাধ্যম ইয়াহু লাইফস্টাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রসিকতার ছলে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে দেশটির সাধারণ ভোটাররা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ— উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই নিজেদের কব্জায় নিয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং ইরানের সঙ্গে অনভিপ্রেত যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট ক্ষোভের ফলে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও বড় ধস নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ জয়ী হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস দেওয়া প্রতিষ্ঠান ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ তার জয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসে বিপুল সাফল্য পেয়েছেন অন্তত সাতজন মুসলিম আইনপ্রণেতা। নাগরিক অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা ও পররাষ্ট্রনীতির ওপর জোর দিয়ে বিজয়ী হওয়া এই আইনপ্রণেতাদের মাধ্যমে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষেই মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলো। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে এবং রিপাবলিকানদের হারিয়ে ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের জন্য একটি ‘বড় ধাক্কা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম। গাজায় ইসরায়েলের নীতি ও মার্কিন সামরিক সহায়তার তীব্র সমালোচক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি দুই বছরে ওয়াশিংটন-ইসরায়েল সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা। এই ফলকে তারা ‘নীল সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করছে।