তেলের দরপতন ও দুর্বল ডলার: বাড়ছে স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিপুল বিজয়ের পর মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়া এবং সরকারি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার হ্রাসের মুখে বিশ্ববাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। তেল ও জ্বালানি পণ্যের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির আশা জেগে ওঠায় এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

 বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১২৩.৭১ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ২০ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। এর আগে বুধবারও স্বর্ণের দামে ৩.৪ শতাংশ উল্লমফন দেখা গিয়েছিল। পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার ১.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৩ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা এক্সএস ডটকমের মার্কেট অ্যানালিস্ট লিন ট্রান জানান, দুর্বল ডলার এবং বন্ডের নিম্নমুখী সুদহার সোনাকে গুরুত্বপূর্ণ ৪ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমার ওপরে ফিরতে সাহায্য করেছে।

তিনি বলেন, যদি বিনিয়োগকারীদের প্রবাহ ও সুদের হার স্বর্ণকে এভাবে সহায়তা করে যায়, তবে এটি ৪ হাজার ডলারের ওপরে স্থিতিশীল হবে। এর ফলে দাম বেড়ে ৪ হাজার ২০০ ডলার এবং পরবর্তীতে ৪ হাজার ৪০০ ডলারে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাফল্যের পর ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে। এতে ইরান সংঘাত থামবে, এমন প্রত্যাশায় টানা চার দিন ধরে কমছে তেলের দাম। জ্বালানির নিম্নমূল্য বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাবে এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় চড়া না রাখার সম্ভাবনা জোরালো করবে, যা স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত ইঙ্গিত পেতে শুক্রবারের মার্কিন নন-ফার্ম পেরোল প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন।

এদিকে আর্থিক সংস্থা সিটি গ্রুপ বুধবার জানায়, আগামী ৩ মাসের মধ্যে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত এবং ইয়েমেন-সৌদি সংঘাতের কিছুটা অবসান ঘটলে স্বর্ণের বাজার আরও চাঙ্গা হবে বলে সিটি পূর্বাভাস দিয়েছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে আউন্স প্রতি ৫২.৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১.৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫১৯.৯০ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৭.৫৪ ডলারে পৌঁছেছে।

সূত্র: রয়টার্স