ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনে তার নিজের রাজনৈতিক ভিত্তিই নড়ে গেছে। দীর্ঘায়িত যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের চড়া দামে অতিষ্ঠ ভোটাররা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছেন। এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়া ট্রাম্পের সামনে এখন সমঝোতার পথ খোঁজা অথবা ঝুঁকিপূর্ণ সংঘাত বাড়ানোর কঠিন বিকল্প উন্মুক্ত হলো।
তেহরান ও তার সহযোগীদের কাছে এই নির্বাচন সংঘাতের ওপর এক ধরণের রায় হিসেবে বিবেচিত হলেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর কর্মকর্তারা ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপে হতবাক। মার্কিন-উপসাগরীয় এক মিত্রের কাছের এক সূত্র মন্তব্য করেন, ইরান আমেরিকাতেই ক্ষমতা পরিবর্তন করতে সফল হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হয়। কিন্তু এতে ইরানের সামরিক ক্ষতি হলেও সিদ্ধান্তমূলক জয় পায়নি মার্কিন জোট। গালফ অঞ্চলের বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে থাকা ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ করতে পারবে, যা তাকে চুক্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে। চীনও এতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে ইরান যদি বিজয়ের দাবি করে এবং ট্রাম্প পরাজিত হিসেবে আবির্ভূত হন, তা আরও বেপরোয়া পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।
এদিকে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে মাত্র ৫৩টি আসন পেয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন। দুই নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎই এখন এই যুদ্ধের ফলাফলের ওপর ঝুলছে।
ভুল হিসাব-নিকাশের ঝুঁকি
আবুধাবির এমিরেটস পলিসি সেন্টারের প্রধান এবতেসাম আল-কেতবি বলেন, মার্কিন নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্য একটি চুক্তি করা জরুরি করে তুলেছে, তবে ইরানের জন্য এটি সহজ নয়। তেহরান যদি বোঝে যে ট্রাম্পের চুক্তি প্রয়োজন, তবে যুদ্ধ থামানোর বড় সুযোগ আসবে। কিন্তু মার্কিন অবস্থান দুর্বল হয়েছে মনে করলে তিনি নতুন সামরিক হামলার পথও নিতে পারেন।
তেহরানে মার্কিন পরাজয়ে আনন্দ প্রকাশ পেলেও সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বিন্দুমাত্র নতি স্বীকার না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে আমিরাতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুলখালেক আবদুল্লাহর মতে, প্রধান বিপদ এখন ইরানের পক্ষ থেকেই আসতে পারে। কারণ তেহরান ট্রাম্পকে দুর্বল ও নেতানিয়াহুকে শেষ ধরে নিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
সৌদিভিত্তিক গালফ রিসার্চ সেন্টারের প্রধান আবদুলআজিজ সাকের জানান, নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় ট্রাম্প তার মেয়াদের শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত চালিয়ে গিয়ে সাফল্য প্রমাণে মরিয়া হতে পারেন। তবে লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সারকিস নাওম মনে করেন, পরাজয়ের পর ট্রাম্প দর-কষাকষির ক্ষমতা হারিয়েছেন। হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সংঘাত বৃদ্ধি এবং কমার সম্ভাবনা সমান।
আগামী জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে আসন গ্রহণ করলে তারা ট্রাম্পের পরিবার ও মিত্রদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় মিত্ররা ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে তাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে মার্কিন তদন্তের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
কেন নাইকির পণ্য নিষিদ্ধ করে ফতোয়া জারি করলো লিবিয়া
বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র কুকুর পার্ল, কত ছোট জানেন?
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কী করতে পারবে, কী পারবে না