মানুস দ্বীপের এ বন্দি শিবিরটিতে বাইরের পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি রয়েছেপাপুয়া নিউগিনির মানুস দ্বীপে অবস্থিত অভিবাসী ও শরণার্থীদের আটক রাখাকে অসাংবিধানিক বলে রুল জারি করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে সব ধরনের অবৈধ আটক বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত পাপুয়া নিউ গিনির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়া এ দ্বীপটিতে অভিবাসন প্রত্যাশী ও শরণার্থীদের আটক করে রাখে।
বিভিন্ন দেশ থেকে নৌকায় করে আসা শরণার্থীদের ঢলকে সামাল দিতে গোটা ইউরোপ যখন হিমশিম খাচ্ছে সেসময় বহুবছরের বিতর্কিত নীতিমালা বহাল রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। নৌকায় করে আসা শরণার্থীদের আটকানো এবং পরে তাদের দ্বীপন্তরিত করে আসছে দেশটি। ২০১২ সাল থেকে নৌকায় করে আসা শরণার্থীদের আবেদনের প্রক্রিয়া শেষ করার আগ পর্যন্ত তাদেরকে কখনও পাপুয়া নিউগিনির মানুস দ্বীপে আবার কখনও নাউরু দ্বীপের আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়। অস্ট্রেলিয়া সরকারের দাবি, নৌকায় করে চলে আসলেই যে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়ে যাওয়া যাবে না সে কথাটুকু সম্ভাব্য আশ্রয়প্রার্থীদের বোঝাতেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন।
আরও পড়ুন: শরণার্থী শিশুদের দ্বীপান্তরিত জীবনের আর্তনাদ
তবে অস্ট্রেলীয় সরকারের সে যুক্তিকে নাকচ করে দিয়ে এ ধরনের আটককে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা দেন পাপুয়া নিউ গিনির সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের ৫ বিচারপতিবিশিষ্ট বেঞ্চের দেওয়া ওই রুলে বলা হয়, পাপুয়া নিউ গিনির সংবিধানের ৪২ ধারায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সেদিক থেকে মানুস দ্বীপে অভিবাসন প্রত্যাশী ও শরণার্থীদের আটক করে রাখাটা সে ৪২ ধারার লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ পাপুয়া নিউ গিনির সরকার সংবিধানের ৪২ ধারায় সংশোধনী এনেছিল। সেসময় একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়, যেখানে বলা হয়-অন্য দেশের ব্যবস্থাপনার অধীনে বিদেশি নাগরিকদের আটকে রাখা যাবে। এবার সে সংশোধনীকেই অসাংবিধানিক বললেন আদালত।
আরও পড়ুন: শরণার্থী জীবন থেকে রক্ষা পেতে গাছে চড়লেন কুর্দি সাংবাদিক!
উল্লেখ্য, বর্তমানে মানুস দ্বীপে সাড়ে ৮শ মানুষ আটক রয়েছেন। এর প্রায় অর্ধেকই প্রকৃত শরণার্থী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/বিএ/