এলেক্স প্রেটি হত্যায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত শুরু

মিনিয়াপলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে বিক্ষোভকারী এলেক্স প্রেটির মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত শুরু করেছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গত শনিবার যেসব পরিস্থিতি আমরা দেখেছি, সে ধরনের ঘটনায় এফবিআই সাধারণত যে ধরনের তদন্ত করে, এটিও তেমনই একটি তদন্ত।” তিনি জানান, এই তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ পর্যায়ে বড় ধরনের ফৌজদারি তদন্ত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এফবিআই এই ঘটনার তদন্ত করছে এবং প্রয়োজন হলে সিভিল রাইটস ডিভিশনের সহায়তা নেওয়া হবে। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় ৩৭ বছর বয়সী প্রেটিকে দুই সশস্ত্র কর্মকর্তা, একজন সীমান্তরক্ষী ও একজন শুল্ক কর্মী গুলি করেন।

প্রেটির পরিবারের আইনজীবী স্টিভ শ্লাইচার বলেন, “নিহতের পরিবারের মূল লক্ষ্য হলো একটি ন্যায্য ও নিরপেক্ষ তদন্ত, যাতে প্রেটির হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তথ্য উঠে আসে।”

রয়টার্স যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেটিকে আটক করার সময় তিনি হাতে একটি মোবাইল ফোন ধরে ছিলেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গুলি ছোড়ার কিছুক্ষণ আগে একজন কর্মকর্তা প্রেটির দেহ থেকে একটি বন্দুক সরিয়ে নেন। এতে কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আরও বেড়েছে।

এই গুলির ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর পর মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযানের ধরন পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর আস্থা না রেখে আলাদা তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, চলতি মাসে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় এখনো কোনো ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেনি বিচার বিভাগ।