যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনে চীন থেকে প্রায় ৪০০টি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পেতে যাচ্ছে ইরান। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর প্রথম চালানটি তেহরানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এ চুক্তির বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র।
প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি ডলার মূল্যের এই চুক্তিটি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে তেহরানের নেওয়া অন্যতম বড় পদক্ষেপ। চলমান যুদ্ধে সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছিল।
চুক্তির আওতায় চীন নির্মিত কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬-সহ ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ম্যানপ্যাডস) কেনা হচ্ছে। হংকংভিত্তিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ঝংশিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
দীর্ঘ পাঁচ মাসের সংঘাতের পর নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে তেহরান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল, যার জবাবে ইরানও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে পাল্টা হামলা চালায়। গত শনিবার ওয়াশিংটন আকস্মিকভাবে বোমাবর্ষণ স্থগিত করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় হামলা চালানো হবে।
এদিকে চীন এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন সংঘাত নিরসনে সবসময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে এই অস্ত্র সরবরাহের খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাডার ও নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে কাঁধে বহনযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্রুত স্থানান্তরযোগ্য এবং ছোট দল দ্বারা পরিচালনা করা যায়। ফলে এগুলো প্রতিপক্ষের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হওয়া থেকে সহজে বেঁচে যেতে পারে। এই কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ ইনফ্রারেড-গাইডেড মিসাইলগুলো মূলত নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ধ্বংস করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স