২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকা মার্কিন রণতরি দেখে ‘স্তম্ভিত’ পর্যবেক্ষকরা

পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও অবরোধ অভিযানে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর সম্প্রতি থাইল্যান্ডের লাম চাবাং বন্দরে নোঙর করেছে প্রায় ১ হাজার ১০০ ফুট দীর্ঘ মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। টানা ২৮৬ দিন সমুদ্রে মোতায়েন থাকা পারমাণবিকচালিত এই বিশাল রণতরির গায়ে জায়গায় জায়গায় মরচে ধরা চেহারা দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন পর্যবেক্ষকরা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে সান ডিয়েগো থেকে রওনা দেওয়ার পর টানা ২৬৪ দিন কোনও পূর্ণাঙ্গ বন্দরে বিরতি না দিয়ে সমুদ্রেই অবস্থান করছিল প্রায় পাঁচ হাজার সেনাসদস্য বহনকারী এই জাহাজটি। জাহাজের গায়ে, বিশেষ করে জলরেখার ওপরে ও ফ্লাইট ডেকের ধারে ভেসে ওঠা লালচে মরচেময় চেহারা প্রসঙ্গে এর কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন ড্যান কিলার বলেন, দীর্ঘ মোতায়েনের পর এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। এটি যেভাবে আছে সেভাবেই দেখাবে, এমন একটি জাহাজ যা টানা ২৮৬ দিন সমুদ্রে ছিল।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল সিকিউরিটি কলেজের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ইউয়ান গ্রাহাম মনে করেন, জাহাজের এই দশা মার্কিন নৌবাহিনীর চরম ক্লান্তি ও সামরিক চাপের এক প্রতীক। তবে সমুদ্রের পানিতে অবস্থানকালীন তুস বা জং পরিষ্কার করা সম্ভব নয় বলে জানান সাবেক মার্কিন ক্যাপ্টেন কার্ল শুস্টার। জলরেখার কাছের জং ঘষে তুলে প্রাইমার ও পেইন্ট লাগাতে জাহাজকে তরঙ্গহীন স্থির অবস্থায় থাকতে হয়, যা যুদ্ধকালীন বা সমুদ্রে থাকা অবস্থায় সম্ভব নয়। পুরো কাজ শেষ করতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগতে পারে। শুস্টার সতর্ক করে বলেন, মরচে একধরনের ছোঁয়াচে রোগের মতো, যা ছড়িয়ে পড়ে। শুরুর দিকে এটি বন্ধ না করলে ইস্পাতের মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।

দীর্ঘ এই মোতায়েনের প্রভাব পড়েছে সেনাসদস্যদের ওপরও। নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ও খাদ্য ঘাটতির খবর প্রকাশ্যে এসেছে, যদিও মার্কিন নৌবাহিনী তা নাকচ করেছে। গত আগস্টে এক সেনাসদস্য জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যাচেষ্টা কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লম্বা সময় সমুদ্রে থাকা নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এটি মোটেও যথেষ্ট দীর্ঘ ছিল না। তবে তিনি প্রায়ই জাহাজের মরচে পড়া রূপ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। সাবেক নেভি সেক্রেটারি জন ফেলান জানান, ট্রাম্প মাঝরাতে ফোন করে চিৎকার করে বলতেন, জাহাজগুলো মেরামত কেন্দ্র থেকে বের করো, ড্যাম জংগুলো পরিষ্কার করো।

দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বর্তমানে থাইল্যান্ডে বিরতিতে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকেরা কাছের পাতায়ায় বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে খুব দ্রুতই জাহাজটি নিজ দেশে ফেরার পথ ধরবে বলে জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন কিলার।