ইলন মাস্কের কোম্পানি নিউরালিংক-এর মতো মস্তিষ্কে চিপ বসানো বা ব্রেইন ইমপ্ল্যান্ট প্রযুক্তি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। স্ট্রোক বা পারকিনসন্সের মতো জটিল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) বড় আশা জাগালেও, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষণ বলছে, উৎপাদন, তথ্য ও বাণিজ্যিকীকরণে চীনের আগ্রাসী পদক্ষেপের কাছে পিছিয়ে পড়ছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন কংগ্রেস গঠিত ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন অন এমার্জিং বায়োটেকনোলজি-র প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়লে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল তৈরির ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বর্তমানে নিউরালিংক, প্রিসিশন নিউরোসায়েন্স ও সিনক্রনের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিসিআই প্রযুক্তির নানা পরীক্ষা চালাচ্ছ। সম্প্রতি চীন মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের হাতের নাড়াচড়া ফিরিয়ে আনার জন্য বিসিআই-এর প্রথম বাণিজ্যিক অনুমোদন দিয়েছে। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও সিক্স-জি প্রযুক্তির মতো বিসিআই-কেও নিজেদের জাতীয় ‘ভবিষ্যৎ শিল্প’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বেইজিং।
যুক্তরাষ্ট্রে জটিল প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক অনুমোদনের ধীরগতির কারণে নতুন কোনও চিকিৎসা বাজারে আসতে গড়ে ১১ বছরেরও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। কমিশনের চেয়ারম্যান সিনেটর টড ইয়ং আক্ষেপ করে বলেন, আমেরিকার চেয়েও দ্রুত গতিতে বিসিআই-এর মতো কৌশলগত প্রযুক্তি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে চীন। আমাদের উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণ বাঁচাতে সরকারের একীভূত বায়োটেকনোলজি কৌশল প্রয়োজন।
তবে প্রযুক্তি যত দ্রুত এগোচ্ছে, নীতি-নৈতিকতা ও গোপনীয়তা সম্পর্কিত আইনি জটিলতা তত বাড়ছে। মস্তিষ্কের ডেটা কার অধীনে থাকবে এবং ডেটা সুরক্ষা আইন এখানে প্রযোজ্য কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এদিকে চীন এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট গোপনীয়তা নীতি বা ডেটা সুরক্ষা আইন আনেনি।
তবে প্রযুক্তিটি এখনও পুরোপুরি নিখুঁত নয়। অনেক ইমপ্ল্যান্টই প্রথম বছরের মধ্যে বিকল হয়ে যায় এবং জটিল মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের জন্য সুস্থ রোগী পাওয়াও কঠিন। তবে ভবিষ্যতে এই বিসিআই প্রযুক্তি চিকিৎসাসেবা ছাড়াও চিন্তাশক্তির মাধ্যমে ড্রোনের দল নিয়ন্ত্রণ করার মতো সামরিক ও অ-চিকিৎসাগত কাজে ব্যবহারের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস

পাতায়া নেমে বারে যাওয়ার আগে কেনাকাটা করলেন মার্কিন সেনারা
২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকা মার্কিন রণতরি দেখে ‘স্তম্ভিত’ পর্যবেক্ষকরা
বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো যুক্তরাষ্ট্রের ভাস্কর্য






