চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক মৈত্রীকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করতে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, এই সফরকে কাজে লাগিয়ে নতুন যুগে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক জোরদারে তিনি কমরেড কিম জং উনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। আর এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হবে দু’দেশের জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনা এবং আঞ্চলিক ও বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা আর সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখা।
নতুন যুগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যিক মৈত্রী দু’পক্ষের অভিন্ন আদর্শ ও সংগ্রামের ভিত্তিতে উন্নত হয়েছে। এই সম্পর্ক সুগভীর ইতিহাস, স্থির রাজনৈতিক ভিত্তি ও সুসংবদ্ধ মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যিক মৈত্রীর ভিত্তি কখনও পরিবর্তিত হবে না। একই সঙ্গে কমরেড কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন উত্তর কোরিয়ার সমাজতান্ত্রিক কর্তব্যের প্রতি চীনের সমর্থনে কোনও পরিবর্তন ঘটবে না এবং দ্বিপাক্ষিক অভিন্ন স্বার্থ ও সুষ্ঠু কৌশলগত পরিবেশ সংরক্ষণের দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় কোনও পরিবর্তন আসবে না।
শি জিনপিং আরও উল্লেখ করেন, দু’দেশের সর্বোচ্চ নেতাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সুবিধা। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কমরেড কিম জং উনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত আদান-প্রদান বজায় রাখতে তিনি গভীরভাবে ইচ্ছুক। জনগণের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে চীন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য, কৃষি, স্থাপত্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন খাতের বাস্তব সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়।
বিনিময় বাড়াতে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে শি জিনপিং বলেন, দু’দেশের সীমান্ত এলাকার বন্দরগুলো সার্বিকভাবে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচলকে কাজে লাগিয়ে দু’দেশের জনগণের পারস্পরিক বিনিময় আরও সম্প্রসারণ করা হবে। পরিশেষে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার বীরদের রক্ত দিয়ে গঠিত এই মৈত্রী দু’দেশের জন্যই শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
সূত্র: সিএমজি