নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্কে ভারতজুড়ে টানা আন্দোলনের মুখে ভারতীয় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শনিবার পদত্যাগ করেছেন। বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তকে দেশের তরুণ সমাজের বিশাল জয় হিসেবে দেখলেও জানিয়েছে, এখানেই লড়াইয়ের শেষ নয়। তারা এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনড় রয়েছে। তবে সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠক শেষে আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করার পথে এক বিরাট পদক্ষেপ। তরুণ সমাজকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লিখেছেন, দেশজুড়ে রাজপথে নেমে যারা সংবিধান, গণতন্ত্র ও নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় অনড় ছিল, সেই প্রতিটি তরুণ ও শিক্ষার্থীর জন্য আমরা গর্বিত।
তবে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করেন যে তাদের অপর দুটি দাবি এখনও বহাল রয়েছে। দাবিগুলো হলো, শিক্ষার্থী ও ভারতের ভবিষ্যৎকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং প্রতিবাদকারী তরুণদের ওপর বলপ্রয়োগকারী দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এই দমনকারী সরকারকে বিদায় জানানোর সময় এসেছে। ভয় পাবেন না।’
কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের প্রধান জয়রাম রমেশ এক্সে লিখেন, ‘অদক্ষ, অনুভূতিহীন ও অহংকারী মন্ত্রী প্রধান অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু এটিই শেষ নয়। আমরা এখনও শিক্ষার্থীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার অপেক্ষা করছি এবং পেলেট গান ব্যবহারসহ নির্মম নির্যাতন চালানো ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা দাবি করছি।’
লোকসভায় কংগ্রেসের উপনেতা গৌরব গগৈ বলেন, আমাদের বার্তা স্পষ্ট, আমরা আন্দোলনরত তরুণদের সংহতি জানাই। প্রথমত আত্মহননকারী ও পুলিশি বর্বরতায় আহত শিক্ষার্থীদের স্মরণ করার সময় এসেছে। দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এখনও শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাচ্ছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সরকার ১০ বছরের জেল, ১০ কোটি রুপি জরিমানা ও পাঁচ মাসের মধ্যে বিচার শেষের বিধান রেখে যে প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল এনেছে, তার সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিটি যুক্ত।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভারতের শিক্ষার্থীদের আওয়াজ অবশেষে অহংকারী ক্ষমতার দ্বারে পৌঁছেছে। এটি লাখ লাখ তরুণের জয় এবং মোদিজির জেদের পরাজয়। যারা সন্তান হারিয়েছেন, সেই পরিবারগুলোর জয় এটি। এখন মোদিজির পালা আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং লাঠি, ব্যাটন ও পেলেট গান চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
কেরালার কালপেট্টায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র বলেন, ‘আজ এমন একটি দিন যখন একটি অগণতান্ত্রিক ও নিপীড়ক সরকার ভারতের জনগণের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। তরুণরাই আমাদের সুন্দর দেশের প্রাণ, তোমরা সবসময় সাহসী থেকো।
সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সভাপতি অখিলেশ যাদব বলেন, এই আন্দোলন থেকে শিক্ষণীয় হলো আর কোনও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কখনও ফাঁস হওয়া উচিত নয়। বিশ্বের বৃহত্তম দল দাবি করা বিজেপি আজ তরুণ সমাজের কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) রাজ্যসভার উপনেতা সাগরিকা ঘোষ বলেন, ‘যখন অহংকারী ও জবাবদিহিতাহীন নরেন্দ্র মোদি সরকার তরুণ শক্তি ও ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদের মুখোমুখি হলো, তখন কে জিতলো? শুধু নিজের কণ্ঠ শুনতে পছন্দ করা মোদিজিকে ভারতের তরুণরা জনগণের কথা শুনতে বাধ্য করেছে।
আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এক ভিডিও বার্তায় একে ‘গণতন্ত্রের বড় জয়’ হিসেবে আখ্যা দেন। তরুণদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তোমাদের প্রচেষ্টাই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। এত বড় আন্দোলনের পর জনগণের কণ্ঠের সামনে সরকারের অহংকার ভেঙে পড়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস