থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেশটির পুলিশ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠের দেবসিরিন নোন্থাবুরি স্কুলে এই বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা স্কুল প্রাঙ্গণ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করে এবং শিক্ষকরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানান, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন আতশবাজির শব্দ বা কেউ কোনও বস্তু আঘাত করছে। তিনি বলেন, প্রথমে আমি বুঝতে পারিনি এটি বন্দুকের গুলি। অনেকবার গুলির শব্দ হয়। তারপর কিছুক্ষণ নীরবতা, এরপর আবার গুলি শুরু হয়।
জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ত্রিরং ফোফান রয়টার্সকে জানান, নিহত সাতজনের মধ্যে সন্দেহভাজন হামলাকারীও রয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী প্রসার্ট জান্তারারুয়াংতং জানান, নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই রয়েছেন। পুলিশ হামলাকারীকে স্কুলটির একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শনাক্ত করেছে।
জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে স্কুলটিতে প্রায় ৩,১০৭ জন শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক ছিলেন। এই ঘটনায় দেশটির উপ-শিক্ষামন্ত্রী আক্কারানান কান্নাকিত্তিনান এক বিবৃতিতে জানান, ভুক্তভোগীদের সহায়তায় সমন্বয় করা হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা ও বন্দুক সহিংসতা নতুন নয়। গত ছয় বছরে দেশটিতে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার শিকার হয়েছে শিশুরা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণে একটি স্কুলে শিক্ষকের মৃত্যু ও এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর এটি এ বছর দ্বিতীয় স্কুল শুটিংয়ের ঘটনা।