শরীরের চুলকানি মেটাতে ম্যাসাজ পার্লার ছেড়ে এখন বিশেষ ‘চুলকানি কেন্দ্রে’ ছুটছেন চীনের মানুষ। অদ্ভুত হলেও সত্যি, শরীরের যেকোনও চুলকানি স্থানে আরামে চুলকে দেওয়ার এই আনকোরা সেবা চীনে দারুণ ব্যবসা সফল হয়ে উঠেছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুয়াংডং প্রদেশের শেনঝেন শহরে গত মে মাসে প্রথম চুলকানি নিরাময় কেন্দ্র খোলেন ঝাং জিয়াওচিয়াও। এর মাত্র ৪০ দিনের মাথায় আরও একটি শাখা চালু করেন তিনি। তাদের বিজ্ঞাপনী বার্তা হলো, ‘আমরা আপনাকে দেব পরম তৃপ্তিদায়ক পিঠ চুলকানোর অভিজ্ঞতা।’
নির্দিষ্ট ফি দিয়ে শরীরের যেকোনও অংশ চুলকে নেওয়া যায় এই দোকানে। চর্ম উদ্দীপিত করে গ্রাহককে মানসিক শান্তি দেওয়া ও চুলকানি থেকে মুক্তি দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য। হাতের নখের মতো নকশা করা বিশেষ সরঞ্জাম দিয়ে আলতো করে চুলকে দেওয়া হয়। সময় ও শরীরের স্থানভেদে খরচে রয়েছে ভিন্নতা। শরীরের ওপরের অংশের ৬০ মিনিটের সেশনের খরচ প্রায় ২০০ ইউয়ান এবং মাথা ও পিঠের ৩০ মিনিটের সেশনের খরচ ১০০ ইউয়ানের মতো।
তবে গ্রাহকদের সবচেয়ে পছন্দ ২৮৯ থেকে ২৯৯ ইউয়ানের ৮০ মিনিটের পুরো শরীরের সেশনটি। প্রায় ৭০ শতাংশ গ্রাহক এই প্যাকেজ বেছে নেন। ঝাং জানান, বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে গভীর কৌশল রয়েছে। এই পদ্ধতিতে রোগীরা মানসিকভাবে বেশ হালকা বোধ করেন এবং প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬-৭ জন গ্রাহক চুলকানোর সময়ই ঘুমিয়ে পড়েন। শহরে কর্মরত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পুরুষ চাকরিজীবী তাদের প্রধান গ্রাহক।
এমনি এমনিই এই ব্যবসা খোলেননি ঝাং। চুলকানির জায়গা ও পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করতে হয়েছে তাকে। মানুষের শরীরে চুলকানির প্রধান ৫টি অঞ্চল এবং ৩০টিরও বেশি বিস্তারিত স্থান রয়েছে। টানা চার মাস ধরে পরিচিতজন ও নিজের ভক্তদের ওপর চাপ, চুলকানোর ক্রম এবং গতির ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে ট্রেনিং নেন তিনি। এই নিখুঁত পরিকল্পনার ফলে বর্তমানে তার দুটি কেন্দ্র থেকে প্রতি মাসে যৌথভাবে আয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ইউয়ান।
সূত্র: উইয়ান নিউজ