ঝগড়ার পর মাকে হত্যা করে পুলিশকে ফোন দিলো কিশোর

ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে মায়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্লায়ার্স দিয়ে আঘাত করে মাকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছরের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। ওই কিশোর নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দেয় এবং লিঙ্গ পরিবর্তনের চিকিৎসা গ্রহণ করছে। আলাদা ভাড়া বাসায় থাকা ওই সন্তানকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন মা। আর সেই তর্কাতর্কির জেড় ধরেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

পুলিশের তথ্যমতে, পিতা-মাতার কাছ থেকে গত সাত মাস ধরে আলাদা বসবাস করছিল দ্বাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার সে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসে। মা তাকে নিজ বাসায় ফিরে আসার জন্য জোর করলে দুজনের মধ্যে তুমুল কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্লায়ার্স দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মায়ের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরই সে নিজে পুলিশকে ফোন করে অপরাধের কথা স্বীকার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।

স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) জানান, ওই দম্পতির একমাত্র সন্তানকে তাদের সঙ্গে এসে থাকার জন্য মা প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছিলেন।

লখনউয়ের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জীতেন্দ্র কুমার শ্রীবাস্তব জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরের আচার-আচরণ আগে থেকেই অননুমেয় ও অস্থির প্রকৃতির ছিল এবং সে অত্যন্ত একগুঁয়ে স্বভাবের। যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই কাপড় ব্যবসায়ী বাবা তার জন্য আলাদা একটি ভাড়া বাসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন এবং সব খরচ বহন করতেন বলে নিশ্চিত করেছেন লখনউয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার নবরতন গৌতম। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আটককৃতকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস