লামিনে ইয়ামাল নামের পেছনে রয়েছে যে কৃতজ্ঞতার গল্প

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মধ্যরাতে মাঠে নামছে স্পেন। কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ থাকবে সদ্য ১৯ বছরে পা দেওয়া স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামালের দিকে। অনেকেই হয়তো জানেন না, বার্সেলোনার এই সুপারস্টারের নামের পেছনে লুকিয়ে আছে দারুণ এক কৃতজ্ঞতার গল্প।

স্প্যানিশ রীতি অনুযায়ী ইয়ামালের নামের শেষে বাবা ও মায়ের পদবি যুক্ত আছে। পাসপোর্টে তার পুরো নাম ‘লামিনে ইয়ামাল নাসরাউই এবানা’। তার বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কোর এবং মা শিলা এবানা নিরক্ষীয় গিনির বংশোদ্ভূত। আরবিতে ‘লামিনে’ শব্দের অর্থ সৎ বা বিশ্বাসযোগ্য এবং ‘ইয়ামাল’ (জামাল শব্দের ভিন্ন রূপ) অর্থ সৌন্দর্য, মাধুর্য বা কমনীয়তা। নাম হিসেবে এগুলো বেশ মানানসই হলেও স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এর পেছনের গল্পটা একটু ভিন্ন।

ইয়ামালের জন্মের সময় তার মায়ের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। নতুন বাবা-মায়ের জন্য সেই সময়টা মোটেও সহজ ছিল না। বাড়তি দায়িত্ব ও বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে তাদের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হয়। তখন তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন দুই পারিবারিক বন্ধু। আর সেই দুই বন্ধুর নাম ছিল ‘লামিনে’ এবং ‘ইয়ামাল’। তাদের নিঃস্বার্থ সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই বাবা-মা সন্তানের এই নাম রাখেন।

এরপরের গল্পটা অবিশ্বাস্য। ৫ মাস বয়সে লিওনেল মেসির সঙ্গে ছবি তোলা সেই শিশুটি ১২ বছর বয়সে বার্সেলোনার লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন। বার্সার হয়ে লা লিগা এবং স্পেনের হয়ে ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন তিনি। ২০২৫ সালে করা বার্সার সঙ্গে তার চুক্তির মূল্য কর বাদে বছরে প্রায় ৪ কোটি ইউরো। সেই সঙ্গে অ্যাডিডাস, কোকা-কোলা, ভিসার মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গেও রয়েছে তার চুক্তি।

তবে কাতালোনিয়ার রোকোফন্ডা এলাকার ফেলে আসা সেই অভাবের দিনগুলো ভোলেননি ইয়ামাল। স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন কাদেনা সার-কে জুলাইয়ের শুরুতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেখুন আমার মায়ের বয়স তখন ১৬, যখন আমি পৃথিবীতে আসি। আমার বাবাকেও জীবন বাঁচানোর তাগিদে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হতো, মাঝে মাঝে আমাদের জন্য খাবার জোগাড় করতে রাস্তা থেকে জিনিসপত্র কুড়িয়ে আনতে হতো। আমার কাছে এটাই প্রকৃত চাপ, এখন আমি যে অবস্থায় আছি সেটা নয়।

রোকোফন্ডার দারিদ্র্যকে স্মরণ করেই তিনি গোলের পর ওই এলাকার পোস্টকোডের শেষ তিন সংখ্যা ‘৩০৪’ দেখিয়ে উদযাপন করেন। তবে যাদের নামে ইয়ামালের নাম, সেই দুই উপকারী বন্ধুর পরিচয় আজও অজানা। ইয়ামাল বা তার পরিবার কখনোই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। হয়তো তারা আড়ালেই থাকতে চান। তবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি যদি তারা দেখে থাকেন, ১৯ বছর আগে দুই তরুণ বাবা-মাকে করা নিজেদের সেই সাহায্যের জন্য তারা আজ নিশ্চয়ই গর্ববোধ করবেন।

সূত্র: দ্য অ্যাথলেটিক