কেনাকাটা করতে গিয়ে বেশি জিনিস দেখে দ্বিধায় পড়েন কেন, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ জুলাই ২০২৬, ২৩:৩৭আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ২৩:৩৭

একদম নিখুঁত ফিটিংয়ের জিনস, সপ্তাহের কাজের দিনে নেটফ্লিক্সের সেরা শো কিংবা জীবনের একমাত্র পারফেক্ট জীবনসঙ্গী; আধুনিক জীবন ব্যবস্থা প্রলোভন দেখায় যে প্রচুর বিকল্প থাকলে যেকোনও কিছুরই ‘সেরা’ জিনিসটি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তবে আচরণবিজ্ঞানীরা বলছেন ঠিক উল্টো কথা। তাদের মতে, কেনাকাটা, সামাজিক জীবন কিংবা সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিকল্প মানুষকে সুখী করার বদলে বেশি উদ্বিগ্ন, সিদ্ধান্তহীন ও অসন্তুষ্ট করে তুলছে।

সোয়ার্থমোর ইউনিভার্সিটির মনস্তত্ত্বের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ‘দ্য প্যারাডক্স অব চয়েস’ বইয়ের লেখক ব্যারি শোয়ার্টজ জানান, পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বেশি বিকল্প থাকা ভালো বলে মনে করা হলেও শত শত গবেষণা বলছে ‘অতিরিক্ত ভালো কিছুও ক্ষতিকর হতে পারে’।

তিনি বলেন, বিকল্পের বন্যায় স্বাধীন হওয়ার বদলে মানুষ একপ্রকার দিশেহারা হয়ে পড়ে। কোনটি ছেড়ে কোনটি করবে তা বুঝে উঠতে পারে না।

বেশি অপশন থাকলে খারাপ ফল পাওয়ার ভয় যেমন বাড়ে, তেমনি সেরা জিনিস বেছে নেওয়ার পরও ‘এর চেয়ে ভালো বুঝি আরও ছিল’, এই আশঙ্কায় মানুষের তুষ্টি কমে যায়। বিশেষ করে যারা সবসময় সেরাটাই চান, তাদের মনস্তাত্ত্বিক ভাষায় ম্যাক্সিমাইজার বলা হয় এবং তারাই বেশি ভোগেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি অপশন থাকলে মানুষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকেই বিরত থাকে। এমনকি সুপারমার্কেটে ২৪টি জ্যামের ফ্লেভারের চেয়ে ৬টি ফ্লেভার রাখা হলে বিক্রি বেশি হয়, কিংবা ৩০টির বদলে ৬টি বিষয় দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্ট বেশি জমা দেয়।

ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির স্নায়ুবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল উইলিংহামের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক মূলত চিন্তা বাঁচানোর জন্যই তৈরি। স্মৃতি থেকে কাজ করাটা মস্তিষ্ক কম শক্তিতে করতে পারে, ফলে বারবার নতুন করে চিন্তা করতে গেলে জট লেগে যায়। সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে নিজের পছন্দের সঙ্গে অন্যের তুলনা জীবনকে আরও জটিল করেছে।

এই সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে গবেষকেরা সিদ্ধান্ত কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। ১৯৭৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী মনোবিজ্ঞানী হারবার্ট সাইমন প্রবর্তন করেছিলেন স্যাটিস্ফাইসিং ধারণা। অর্থাৎ, যা ‘যথেষ্ট ভালো’ সেই মানদণ্ড বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

গবেষক ডেভিড এপ্রস্টাইন যেমন নিজের সিদ্ধান্ত কমানোর জন্য একই ফিটিংয়ের ১০টি টি-শার্ট কিনেছিলেন। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অনলাইন কেনাকাটায় রিভিউ না দেখে নিজের মূল প্রয়োজন মিটলেই তা কিনে ফেলা কিংবা নতুন ফোন বা আর্থিক পরিকল্পনার মতো বিষয়ে বন্ধু বা পেশাদারদের ওপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

শোয়ার্টজ জানান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস কমালে মানুষ নিজের নেওয়া পছন্দে বেশি সন্তুষ্ট থাকে এবং হঠাৎ করেই দিনে অন্তত দুই ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় বেঁচে যায়।

সূত্র: এপি

/এএ/
সম্পর্কিত
কথা বলতে হলে মন্ত্রীকে বিক্ষোভস্থলে আসতে হবে: ককরোচ জনতা পার্টি
সেই একই জায়গা দখল করেছে ককরোচ জনতা পার্টি, উত্তপ্ত দিল্লি
দাদি-নানিদের শখে ফিরছে তরুণ প্রজন্ম
সর্বশেষ খবর
মঞ্চে এল বটতলার নতুন নাটক ‘যোজনগন্ধা মায়া’
মঞ্চে এল বটতলার নতুন নাটক ‘যোজনগন্ধা মায়া’
‘সবচেয়ে বড় আফসোস, আমরা এখনও বিচার পেলাম না’
‘সবচেয়ে বড় আফসোস, আমরা এখনও বিচার পেলাম না’
২৪ বছর আগে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  
২৪ বছর আগে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
সর্বাধিক পঠিত
পরবর্তী ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক কারা, জেনে নিন সূচি ও নতুন ফরম্যাট
পরবর্তী ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক কারা, জেনে নিন সূচি ও নতুন ফরম্যাট
সাবান-আইসক্রিমসহ চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ 
সাবান-আইসক্রিমসহ চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ 
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার
মিত্রদের নিয়ে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ: কারা যাচ্ছেন, কারা যাচ্ছেন না
মিত্রদের নিয়ে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ: কারা যাচ্ছেন, কারা যাচ্ছেন না
ছাত্রনেতা থেকে যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন
ছাত্রনেতা থেকে যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন