লাতিন আমেরিকার ফুটবল মানেই এক অদ্ভুত আবেগ ও ভ্রাতৃত্ববোধ। অতীতে যেকোনও ইউরোপীয় দলের বিরুদ্ধে লাতিন আমেরিকার দলগুলো একে অপরকে সমর্থন করত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চেনা সমীকরণ অনেকটাই বদলে গেছে। আজ রবিবার দিবাগত রাতের হাইভোল্টেজ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন। আর এই মহারণে আর্জেন্টিনার নিজের অঞ্চলের, অর্থাৎ লাতিন আমেরিকারই বহু মানুষ প্রতিবেশীকে ছেড়ে স্পেনের পক্ষে সমর্থন জোগাচ্ছেন।
ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ও গ্লোবোর রাজনৈতিক কলামিস্ট জুলিয়া দুয়াইলিবি গত বৃহস্পতিবার তার কলামে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন না দেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল জয়ের পর তিনি লিখেছেন, আমি সব সময় আর্জেন্টাইনদের ভক্ত এবং লাতিন আমেরিকার দল হিসেবে তাদেরই সমর্থন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু গ্যালারিতে সংখ্যালঘু কিছু ভক্তের বর্ণবাদী আচরণ এবং মাঠে সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড়দের এ নিয়ে নীরবতা আমার ভেতরটাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
ফুটবল সমর্থকদের নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা আর্জেন্টিনার সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানী নিকোলাস ক্যাব্রেরা বলেন, আগে ইউরোপের বিরুদ্ধে লাতিন আমেরিকার দলকে সমর্থনের যে প্রবণতা ছিল, তা এখন অনেক বদলে গেছে। তার মতে, পূর্বে এই দূরত্ব কেবল ব্রাজিলের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর অন্যতম কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টিনার একক আধিপত্য। তারা শেষ চার বিশ্বকাপের তিনটিরই ফাইনালে উঠেছে। বিপরীতে ২০০২ সালের পর ব্রাজিল আর ফাইনালেই পৌঁছাতে পারেনি।
ক্যাব্রেরা আরও জানান, টুর্নামেন্টে ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে ঘৃণা ছড়ানো, বর্ণবাদ ও বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো এখন বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে।
সম্প্রতি ব্রাজিলে বর্ণবাদী অপমান-এর দায়ে বেশ কয়েকজন আর্জেন্টাইন পর্যটক গ্রেফতার হয়েছেন। এমনকি ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের পর ফরাসি খেলোয়াড়দের নিয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের বর্ণবাদী ও সমকামীবিদ্বেষী গান গাওয়ার ঘটনাও বেশ সমালোচিত হয়েছিল। এছাড়া চলতি বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার এক ডানপন্থি সাংবাদিক মেক্সিকানদের তীব্র ঘৃণা করার কথা বলায় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ব্রাজিলের কলামিস্ট জুলিয়া দুয়াইলিবি বলেন, বর্ণবাদের ক্ষেত্রে ব্রাজিলও আদর্শ নয়, তবে আমাদের আইনি কাঠামো তাদের চেয়ে অনেক কার্যকর।
উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনায় বর্ণবাদকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কোনও সুনির্দিষ্ট আইন নেই।
তবে বর্ণবাদের কারণ দেখিয়ে যারা স্পেনের পক্ষে যাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন ব্রাজিলের ইতিহাসবিদ ফ্যাবিও লুইস বারবোসা দো সান্তোস। তিনি আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন করছেন। সান্তোস বলেন, বিষয়টি যদি বর্ণবাদ হয়, তবে স্পেনকেও সমর্থন করা যায় না।
তিনি স্পেনের ঔপনিবেশিক অতীত এবং লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলীয় তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রের প্রতি ক্রমাগত বর্ণবাদী আচরণের কথা মনে করিয়ে দেন। সান্তোসের মতে, ঔপনিবেশিক ইতিহাস এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে দুই দেশের ভাগ্য এক সূত্রে গাঁথা।
সান্তোসের মতো অনেক ব্রাজিলীয়ই অবশ্য ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির জাদুতে মুগ্ধ হয়ে আর্জেন্টিনার সমর্থন করছেন। জোয়াও ফেলিপ জুনিয়র নামের এক ক্যাব চালক মারাকানা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ফিফা আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে মিম ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অর্থহীন। মেসির পারফরম্যান্সের কারণেই তারা ফাইনালে ওঠার যোগ্য। মেসি যেদিন অবসর নেবেন, সেদিন থেকে আমিও আর্জেন্টিনার সমর্থন করা বন্ধ করে দেব।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

রেস্তোরাঁয় একা খাওয়াই কি এখন ট্রেন্ড
আন্তর্জাতিক রুটে প্রথমবার উড়বে চীনের নিজস্ব উড়োজাহাজ
ইসরায়েলকে স্বীকৃতির সমঝোতায় যুদ্ধ বাড়ায়নি ভারত, দাবি ইমরান খানের বোনের







