রাশিয়া নিয়ে ইউরোপকে মেজাজ সামলে কথা বলতে বললো যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়া থেকে আসা হুমকি নিয়ে বক্তব্য প্রদানে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকে মেজাজ সামলে ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে অনুরোধ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন। ইউরোপীয় নেতাদের কিছু বক্তব্য মহাদেশীয় নিরাপত্তাকে ব্যাহত করছে, এমন যুক্তি দিয়ে সম্প্রতি এ অনুরোধ করা হয়। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত চারটি সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, যেসব দেশকে তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ন্ত্রণে রাখার অনুরোধ জানিয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া রয়েছে। দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে দেওয়া এই বার্তা ইউরোপের অন্য সরকারগুলোকে দেওয়া হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিরসনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন নতুন করে আলোচনা শুরু করতে চাপ দিচ্ছে, তখনই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ এলো। পঞ্চম বছরে পা দেওয়া এই যুদ্ধে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পাশাপাশি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে তাদের হামলা বন্ধে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, সহযোগীদের মধ্যকার গোপনীয় আলোচনা শুধুই ব্যক্তিগত বিষয়, তাই এসব অভিযোগ নিয়ে আমরা কোনও মন্তব্য করব না।

সূত্র জানায়, ইউক্রেন আক্রমণ ধীর হয়ে পড়ায় রাশিয়া কোণঠাসা হয়ে ক্রমেই মরিয়া পদক্ষেপ নিচ্ছে, ইউরোপীয় নেতাদের এমন মন্তব্য মার্কিন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসংখ্যা পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবি এসব বার্তা প্রদানকারীদের একজন। ৩ জন ইউরোপীয় ও ১ জন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এ পরামর্শ কোনও সংঘাতপূর্ণ বা বিরোধপূর্ণ ভঙ্গিতে দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বার্তা রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটো জোটের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির বিতর্ককে তুলে ধরে। কোলবি সম্প্রতি এক বাল্টিক কর্মকর্তাকে বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের উসকানিমূলক আচরণ উচিত নয়। ইউরোপীয়দের প্রকাশ্যে বলা যে রাশিয়া ‘কোণঠাসা ইঁদুরের মতো’ হয়ে পড়েছে, এটিকে অনুপযোগী বক্তব্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিচাল পুতিনকে ‘কোণঠাসা ইঁদুর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, ইউক্রেনে আটকে পড়ে পুতিন ইউরোপে নাশকতামূলক তৎপরতার আশ্রয় নিচ্ছেন।

পেন্টাগনের এই বার্তা তুলে ধরে এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আমরা আপনাদের সাহায্য করছি। আমেরিকানরা সেখানে রয়েছে। শুধু বেশি সোচ্চার হবেন না। গোলমাল করবেন না।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাল্টিক অঞ্চলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেখানে ন্যাটোর ওপর রাশিয়ার আক্রমণের আশঙ্কা কম মনে করছে, সেখানে পেন্টাগনের এই পরামর্শে তারা কিছুটা বিস্মিত। অন্যদিকে, ডেনমার্ক ও অন্যান্য দেশের গোয়েন্দারা সতর্ক করছে যে রাশিয়া ইউরোপজুড়ে তাদের নাশকতামূলক প্রচার ত্বরান্বিত করতে পারে। সম্প্রতি জার্মানিতে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে দুজন গ্রেফতার এবং একটি বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইউক্রেন শান্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসার কথা ভাবছে, তখন পেন্টাগন ইউরোপে তাদের সেনা কমানোর কথা চিন্তা করছে। মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইউরোপকে তাদের নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেদেরই বেশি নিতে হবে।