ভ্রমণ-লাইফস্টাইলে নয়: জেন-জিদের বাজেটের বড় অংশ যাচ্ছে যেখানে

অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ ও ডিজিটাল জীবনযাপনের প্রতি আগ্রহের জন্য পরিচিত ‘জেন-জি’ প্রজন্ম। তবে বাস্তবে অর্থ খরচের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার কিছুটা ভিন্ন। বেতনভোগী জেন-জিদের মাসিক খরচের বড় অংশই যাচ্ছে দৈনন্দিন প্রয়োজন ও নিয়মিত আর্থিক দায় মেটাতে। ভ্রমণে খরচ হচ্ছে মাত্র ৫ শতাংশ।

ফিনটেক প্রতিষ্ঠান স্যালারি-সির নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে বেতনভুক্ত জেন-জি তরুণ-তরুণীরা তাদের মাসিক উপার্জনের বড় অংশই দৈনন্দিন প্রয়োজন ও নিয়মিত আর্থিক দায়বদ্ধতা মেটাতে ব্যয় করছেন। অন্যদিকে যাকে তাদের মূল পছন্দ ভাবা হতো, সেই ভ্রমণ খাতে খরচ হচ্ছে মাসিক বাজেটের মাত্র ৫ শতাংশ।

গবেষণার এই ফল জেন-জি সম্পর্কে প্রচলিত ‘লাইফস্টাইল-ফার্স্ট’ বা বিলাসিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারণাটি ভেঙে দিয়েছে। এর বদলে দেখা যাচ্ছে, তাদের আয়ের বড় অংশ যাচ্ছে বিল পরিশোধ, মুদি সদাই, আর্থিক সেবা, কেনাকাটা এবং খাবারের পেছনে।

কোথায় খরচ হচ্ছে টাকা?

জেন-জির মাসিক খরচের সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ ২০.১ শতাংশ যাচ্ছে বিভিন্ন বিল ও সাবস্ক্রিপশন ফি পরিশোধে। এর পরেই ১৫.৭ শতাংশ খরচ হচ্ছে মুদি সদাইয়ে। আর্থিক সেবা সংক্রান্ত খাতে ১২.২ শতাংশ, কেনাকাটায় ১১.৯ শতাংশ এবং খাবারের পেছনে ১১.৫ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই পাঁচটি মৌলিক খাতেই তাদের মাসিক খরচের ৭০ শতাংশেরও বেশি চলে যাচ্ছে। এই তথ্যটি প্রমাণ করে যে, জেন-জি তরুণরা জাকজমকপূর্ণ খাতের চেয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাতেই বেশি টাকা খরচ করছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বিল, সাবস্ক্রিপশন ও আর্থিক সেবার মতো খাতে বড় অংকের খরচ তরুণ পেশাজীবীদের দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল পেমেন্টের গভীর প্রভাবকে তুলে ধরে।

ভ্রমণ খাতে মাত্র ৫ শতাংশ

সাধারণত জেন-জির পছন্দের তালিকায় ভ্রমণ শীর্ষে থাকে বলে মনে করা হলেও, বাস্তবে গবেষণায় তাদের মাসিক খরচের মাত্র ৫ শতাংশ ভ্রমণের পেছনে ব্যয় হতে দেখা গেছে। যা ইঙ্গিত দেয়, তাদের ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলেও মাসিক বাজেটে এর প্রাধান্য নেই; বরং নিয়মিত বিল ও দৈনন্দিন প্রয়োজনকেই তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

বিনোদনমূলক সাবস্ক্রিপশনের ক্ষেত্রেও জেন-জির স্পষ্ট উপস্থিতি রয়েছে। দেখা গেছে, এই ধরনের সাবস্ক্রিপশনের মধ্যে ১২.৪ শতাংশ শেয়ার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে জিওহটস্টার। এরপর ১০.৭ শতাংশ শেয়ার নিয়ে নেটফ্লিক্স এবং ৫.৬ শতাংশ শেয়ার নিয়ে রয়েছে স্পোটিফাই।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, ইউটিলিটি বিল, আর্থিক সেবা ও ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থাপনায় ইউপিআই এবং অটো-পের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাদের বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধ হয়ে যাচ্ছে এবং অ্যাপের মাধ্যমেই আর্থিক সেবা মিলছে।

বয়স বাড়লেও খরচের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন নেই

স্যালারি-সির গবেষণায় ১৮-২৩ বছর এবং ২৪-২৯ বছর বয়সী জেন-জির দুটি ভিন্ন দলের খরচের ধরণ বিশ্লেষণ করা হয়। আশ্চর্যজনকভাবে দেখা গেছে, উভয় দলের ক্ষেত্রেই ইচ্ছাধীন বা বিলাসিতা সংক্রান্ত খরচ ৩২ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৮-২৩ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ যেখানে ছিল ৫০ শতাংশ, ২৪-২৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ শতাংশে। এটি কর্মজীবনের বিভিন্ন ধাপে তাদের আর্থিক অগ্রাধিকারের পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে।

স্যালারি-সির সহ-প্রতিষ্ঠাতা পীযূষ বাগাড়িয়া জানান, এই প্রজন্ম ডিজিটাল পেমেন্ট ও দৈনন্দিন দায়িত্ববোধকে কেন্দ্র করে তাদের আর্থিক অভ্যাস গড়ে তুলছে। এনডিটিভিকে তিনি বলেন, ভারতের জেন-জি হলো প্রথম প্রজন্ম, যারা তাদের আর্থিক জীবনের প্রায় সব দিক একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করছে।

তিনি আরও বলেন, ইউপিআই এর ব্যাপক প্রসার তরুণ পেশাজীবীদের খরচ ও অর্থ ব্যবস্থাপনার ধরণ বদলে দিয়েছে। ভারতের তরুণ বেতনভুক্ত কর্মীদের মাসিক বাজেট এখনও মূলত মৌলিক বিষয়গুলোর ওপরই নির্ভর করছে- বিল মেটানো, মুদি কেনা, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং খাবার জোগাড় করা। ভ্রমণ ও জীবনধারায় খরচ অবশ্যই আছে, তবে প্রচলিত ধারণার মতো তা তাদের বাজেটের বড় অংশ দখল করে নেই। 

সূত্র: এনডিটিভি