গাজায় ৬ সাংবাদিককে হত্যা করায় ইসরায়েলের লক্ষ্যভিত্তিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর। একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ইসরায়েলকে সব বেসামরিক নাগরিকসহ সাংবাদিকদেরও সম্মান ও সুরক্ষা দিতে হবে। আমরা গাজায় সব সাংবাদিকদের জন্য তাৎক্ষণিক, নিরাপদ ও বাধাহীন প্রবেশের আহ্বান জানাই।
মিডিয়া অধিকার সংস্থা এবং কাতারসহ বিভিন্ন দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেছেন, এ ঘটনায় যুক্তরাজ্য সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্টারমারের সরকারি মুখপাত্র বলেছেন, ইসরায়েলকে নিশ্চিত করতে হবে যে সাংবাদিকরা নিরাপদে কাজ করতে এবং ভয় ছাড়া প্রতিবেদন করতে পারেন।
গাজা আল-শিফা হাসপাতালের বাইরে তাঁবুর ওপর লক্ষ্যভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আনাস আল-শরীফ, সহকর্মী সংবাদদাতা মোহাম্মদ কুরেইকেহ এবং ক্যামেরাপার্সন ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নুফাল ও মোয়ামেন আলিওয়ার নিহত হয়।
আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নিহত ষষ্ঠ সাংবাদিক হলেন মোহাম্মদ আল-খালদি।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, হামলায় আরও একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
জানাজায় অংশ নিতে গাজায় রাস্তায় বিপুল জনসমাগম হয়। সাংবাদিক আনাস আল-শরীফ ছিলেন ঘরে ঘরে পরিচিত একটি নাম, যার অনলাইনে ছিল লাখো অনুসারী।
রিপোর্টার্স উইদাউট বরডার্স ইসরায়েলের এই হামলাকে শরীফের ‘হত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে কড়া নিন্দা জানিয়েছে।
ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, তারা লক্ষ্যভিত্তিক এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ। সংস্থাটি বলেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায়ই কোনও যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই বারবার ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ‘যোদ্ধা’ বলে অভিহিত করেছে।
কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) বলেছে, তারা এই হামলায় হতবাক এবং ইসরায়েল শরীফের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনও প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের, নথিভুক্ত একটি ধারা রয়েছে যেখানে সাংবাদিকদের সন্ত্রাসী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয় কিন্তু কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হয় না।’
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের কাছে গাজায় পাওয়া কিছু নথি আছে যা প্রমাণ করে যে শরীফ হামাসের সদস্য ছিলেন।
এখন পর্যন্ত প্রকাশের জন্য যে উপকরণ দেওয়া হয়েছে, তাতে রয়েছে উত্তরের গাজা থেকে হামাস সদস্যদের তালিকা, সদস্যদের আঘাতের তথ্য, এবং হামাসের ইস্ট জাবালিয়া ব্যাটালিয়নের ফোন ডিরেক্টরির একটি অংশের স্ক্রিনশট।
বিবিসি এই নথিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং শরীফ বর্তমান যুদ্ধে জড়িত ছিলেন বা হামাসের সক্রিয় সদস্য ছিলেন—এমন কোনও প্রমাণও পায়নি।
আল জাজিরার সম্পূর্ণ সংবাদ দলকে হত্যা করার বিষয়ে এখনও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সিপিজে বলেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ১৮৬ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
গত মাসে বিবিসি এবং আরও তিনটি সংবাদ সংস্থা—রয়টার্স, এপি ও এএফপি—এক যৌথ বিবৃতিতে গাজা উপত্যকার সাংবাদিকদের নিয়ে “চরম উদ্বেগ” প্রকাশ করেছে। বিবৃতি অনুযায়ী, সাংবাদিকরা ক্রমশ নিজেদের এবং পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করতেও অক্ষম হয়ে পড়ছেন।
ইসরায়েল সরকার বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে গাজায় প্রবেশ করে স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন করার অনুমতি দেয় না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান কভারেজের জন্য গাজাভিত্তিক সাংবাদিকদের ওপর নির্ভর করে।
সূত্র: বিবিসি